জুবিলি মোড় থেকে সেল আইএসপি গেট পর্যন্ত বেহাল রাস্তার সংস্কার শুরু, কাজ পরিদর্শন করলেন বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, স্বস্তি পেতে পারেন প্রায় ৬ হাজার পড়ুয়া।
আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর আসানসোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। আসানসোলের জুবিলি মোড় থেকে সেল আইএসপি গেট পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা রাস্তার সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তির আশা তৈরি হয়েছে। ভারী যানবাহনের লাগাতার যাতায়াতের কারণে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষ, গাড়িচালক এবং স্কুল পড়ুয়াদের যাতায়াতে ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল।
এবার সেই রাস্তার সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তির আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংস্কারের কাজ পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, রাস্তার বেহাল অবস্থার কথা মাথায় রেখে দীর্ঘদিন ধরেই এই রাস্তার নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছিল।
ভারী যানবাহনের যাতায়াতে বেহাল রাস্তা
জুবিলি মোড় থেকে সেল আইএসপি গেট পর্যন্ত এই রাস্তাটি শিল্পাঞ্চলের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে প্রচুর সংখ্যায় ভারী যানবাহন চলাচল করে। নিয়মিত ভারী যানবাহনের যাতায়াতের কারণে রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছিল।
রাস্তার বেহাল দশার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছিল। পাশাপাশি, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই প্রচুর স্কুল পড়ুয়া যাতায়াত করে। ফলে রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে তাদেরও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল।
বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে কাজে গতি
আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় রাস্তা সংস্কারের জন্য লাগাতার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সমস্যা নিয়ে তাঁর পক্ষ থেকে আন্দোলনও করা হয়েছিল। রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সরব হওয়ার পর অবশেষে সংস্কারের কাজে গতি এসেছে।
কাজ পরিদর্শনের সময় বিধায়ক জানান, রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষকে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। এই রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি, প্রায় ৬ হাজার স্কুল পড়ুয়া প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই স্কুলে যাতায়াত করে।
তিনি জানান, রাস্তা সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (ADDA)-এর পক্ষ থেকেও আগে কাজ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও কারণে সেই কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছিল না।
স্থায়ী সংস্কারের কাজ শুরু, চলবে একটানা
বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় জানান, এবার রাস্তার স্থায়ী সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কাজ ধারাবাহিকভাবে চলবে এবং দুর্গাপুজোর আগেই রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, “এই রাস্তাটি অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষকে অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল। এই রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করে। স্কুল পড়ুয়ারাও এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। প্রায় ৬ হাজার পড়ুয়া এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যায়। আমরা লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। ADDA-ও আগে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এবার স্থায়ী কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজ একটানা চলবে, বন্ধ থাকবে না।”
বাজেট ও অর্থপ্রদানের সমস্যারও সমাধান
রাস্তা সংস্কারের বাজেট প্রসঙ্গে বিধায়ক স্পষ্ট করে জানান, আগের অনুমোদিত বাজেট এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ীই কাজ করা হচ্ছে। তিনি জানান, তহবিল এবং অর্থপ্রদান সংক্রান্ত কিছু সমস্যা ছিল। জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই সমস্যাগুলির সমাধান হয়েছে।
বিধায়কের দাবি, পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস. পন্নমবালম অর্থপ্রদান সংক্রান্ত সমস্যাগুলি মেটাতে সাহায্য করেছেন। এরপরই ঠিকাদার কাজ শুরু করেছেন। তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পে আগে থেকে নিযুক্ত ঠিকাদারই রাস্তা সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ করছেন।
তবে প্রকল্পের মোট খরচের সঠিক পরিমাণ এই মুহূর্তে জানাতে পারেননি বিধায়ক। তিনি জানান, আগের অনুমোদিত বাজেটের আওতাতেই কাজ করা হচ্ছে।
দুর্গাপুজোর আগেই রাস্তা সংস্কারের আশা
আসানসোলের জুবিলি মোড় থেকে সেল আইএসপি গেট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তির আশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের যাতায়াতের মধ্যে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী এবং স্কুল পড়ুয়াদের জন্য রাস্তা সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এখন সকলের নজর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয় কি না, সেদিকে। বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় দুর্গাপুজোর আগেই রাস্তা সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে উৎসবের মরশুমে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ অনেকটাই স্বস্তি পেতে পারেন।

