निभীক বাংলা, আসানসোল: আসানসোলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে এবং শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে এক বিরাট ধাক্কা দিয়ে বেশ কিছু মহিলা কর্মী ও নেত্রী কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। আসানসোলের সবচেয়ে ব্যস্ত জিটি রোডের চার্চ মোড়ের সংলগ্ন জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে রবিবার এক বিশেষ মহিলা কংগ্রেস সাংগঠনিক অনুষ্ঠানে এই দলবদল ঘটে। এই রাজনৈতিক পালাবদল ইতিমধ্যেই শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং জল্পনা বাড়িয়েছে।
কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, এদিন বারাবনী, কুলটি এবং আসানসোল দক্ষিণ ব্লক থেকে মোট ৬৬ জন মহিলা কর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেস দলে যোগ দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে তৃণমূলের মহিলা সংগঠনে এই ধরনের ভাঙন শাসক দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলছে।
জানা গেছে, কুলটি ব্লকের তৃণমূল মহিলা সংগঠনের প্রভাবশালী নেত্রী মৌমিতা ব্যানার্জি সেনগুপ্তর নেতৃত্বে প্রায় ৩০ জন তৃণমূল কর্মী দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। একই সঙ্গে বারাবনী ব্লকেও বড় ধাক্কা খায় শাসক দল। সেখানে মনশিলা কুমারী পান্ড্যের নেতৃত্বে আরও প্রায় ৩০ জন মহিলা কংগ্রেসে যোগ দেন। এছাড়া আসানসোল দক্ষিণ ব্লক থেকেও তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের ছয়জন সক্রিয় মহিলা কর্মী রাজ্যের শাসক শিবির ছেড়ে কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেন।
রবিবারের যোগদান সভা ও সাংগঠনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য মহিলা কংগ্রেস সভাপতি শ্রাবন্তী সিং, জেলা মহিলা কংগ্রেস আসানসোল সভাপতি শ্রীলতা ব্যানার্জি, বিশিষ্ট কংগ্রেস নেত্রী ও আইনজীবী শম্পা সরকারসহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। নতুন যোগদানকারীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে বরণ করে নেন নেতারা।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে কংগ্রেস নেতৃত্ব দাবি করে যে, তৃণমূল ছেড়ে আসা এই মহিলা কর্মীরা পশ্চিম বর্ধমান জেলায় মহিলা কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে শাসক দলকে কঠিন লড়াই দেওয়ার এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তরের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে দলত্যাগের এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা আগামী দিনে এই শিল্পাঞ্চলে কংগ্রেসের হারানো রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধার করতে এবং এর সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

