Nirbhik Bangla
ब्रेकिंग न्यूज़

পশ্চিম বর্ধমানে বালি সংকট দূর করতে চালু হচ্ছে সমস্ত বৈধ ঘাট, দাম বেঁধে দিল প্রশাসন

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
24 सितंबर 2026 को 10:51 am बजे
WhatsApp
পশ্চিম বর্ধমানে বালি সংকট দূর করতে চালু হচ্ছে সমস্ত বৈধ ঘাট, দাম বেঁধে দিল প্রশাসন
আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলায় দীর্ঘদিনের বালি সংকট দূর করতে এবং থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজ সচল রাখতে অবশেষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করল জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার আসানসোলে অবস্থিত জেলা শাসকের প্রশাসনিক ভবনে জেলার বিশিষ্ট বিধায়ক ও বালির ঘাট মালিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, জেলার সমস্ত বৈধ বালির ঘাটগুলিকে অবিলম্বে পুনরায় চালু করা হবে। একই সাথে, বালি বিক্রি এবং পরিবহনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে প্রতি ট্রাক্টর বালির দাম সুনির্দিষ্টভাবে ১২০০ টাকা স্থির করে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদিন অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে যে, এই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক টাকাও বেশি কোনো বালি ঘাটের মালিক, সিন্ডিকেট বা ব্যবসায়ী দাবি করতে পারবেন না। যদি কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য আদায় বা বেআইনি বালি ব্যবসার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে, তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া থেকে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোটা প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে এবং কোনো ধরনের কালোবাজারি বা সিন্ডিকেট রাজ রুখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি দল বা ভিজিল্যান্স টিম তৈরি করা হয়েছে। এই বিশেষ দলগুলি নিয়মিত বিভিন্ন ঘাট ও পরিবহন রুটগুলিতে পরিদর্শন চালাবে এবং কড়া নজর রাখবে।

এদিনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, বিশিষ্ট বিধায়ক লক্ষণ ঘরুই এবং আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বালি ঘাট মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

বৈঠক শেষে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাজ্য সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব ও মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশেই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে জেলার নদীগুলির বালি ঘাটগুলি বন্ধ থাকার ফলে পশ্চিম বর্ধমান জুড়ে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ নির্মাণ শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এর জেরে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং ব্যক্তিগত আবাসন তৈরির কাজ। বালি না পাওয়ার কারণে চরম বিপাকে পড়েছিলেন হাজার হাজার নির্মাণ শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি ও সংশ্লিষ্ট খাতের দিনমজুরেরা।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি বলেন, বালি সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক জটের কারণে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছিল এবং সাধারণ মানুষ চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশে আমরা সব পক্ষকে এক টেবিলে বসিয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান করেছি। নির্ধারিত ১২০০ টাকা মূল্যের বেশি কেউ নিলে বা অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে প্রশাসন বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করবে না।

একই সুরে বিধায়ক লক্ষণ ঘরুই জানান, আইনসম্মতভাবে বৈধ ঘাটগুলি পুনরায় চালু হওয়ায় জেলার নির্মাণ খাতে নতুন করে গতি ফিরবে। কৃত্রিম বালি সংকট দূর করে সাধারণ মানুষকে ন্যায্য মূল্যে ও সহজে বালি পৌঁছে দিতেই রাজ্য সরকারের এই জনমুখী সিদ্ধান্ত। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কালোবাজারি না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনের কড়া নজরদারি সর্বদাই বজায় থাকবে।

উল্লেখ্য, প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে আসানসোল শিল্পাঞ্চল সহ সমগ্র পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়ে নির্মাণ ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এক স্বস্তির হাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারির ফলে যেমন বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য কমবে, তেমনই সঠিক মূল্যে বালি পাওয়ায় থমে যাওয়া উন্নয়নমূলক কাজগুলিও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। দীর্ঘমেয়াদী এই ব্যবস্থার ফলে শিল্পাঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতিও ফের ইতিবাচক দিকে মোড় নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। বালি ঘাটগুলি চালু হওয়ার কারণে পরিবহণ শ্রমিক ও লরি মালিকরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
12 टिप्पणियां