Nirbhik Bangla
राज्य

অজানা বাবার সেই মাজার, যেখানে পথ না থাকলেও প্রতিদিন শত শত ভক্ত পৌঁছে যান নিজেদের মনের ইচ্ছা নিয়ে

পুরুলিয়া, পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে, পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়া জেলার সীমানা এলাকায় অবস্থিত অজানা বাবার মাজার আজ আর পরিচয়ের অপেক্ষায় নেই। ঘন জ...

Abdul Haque
Abdul Haque
18 जुलाई 2026 को 09:36 am बजे
WhatsApp
অজানা বাবার সেই মাজার, যেখানে পথ না থাকলেও প্রতিদিন শত শত ভক্ত পৌঁছে যান নিজেদের মনের ইচ্ছা নিয়ে
पुरुलिया पश्चिम बंगाल की राजधानी कोलकाता से लगभग 28 किमी दूर पश्चिम बंदमान और पुरुलिया जिले के सीमा क्षेत्र में स्थित है।|निर्भीक बांग्ला फोटो
পুরুলিয়া, পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে, পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়া জেলার সীমানা এলাকায় অবস্থিত অজানা বাবার মাজার আজ আর পরিচয়ের অপেক্ষায় নেই। ঘন জঙ্গল আর নদীর মাঝে অবস্থিত এই দরগাহের বিশেষত্ব শুধু তার ভৌগোলিক অবস্থানেই নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের গভীর বিশ্বাসেও। সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিহার, ঝাড়খণ্ড ও অন্যান্য রাজ্য থেকেও ভক্তরা বছরের পর বছর এখানে এসে উপস্থিত হন। কারও কাছে এই মাজার ১০ বছরের আস্থার কেন্দ্র, আবার কেউ ২০, ৩০, ৪০ বা ৫০ বছর ধরে নিয়মিত এখানে আসছেন। প্রত্যেকেই নিজের নিজের গল্প নিয়ে আসেন—কেউ মনের ইচ্ছা পূরণের আশায়, কেউ বা ইচ্ছা পূরণ হওয়ার পর কৃতজ্ঞতা জানাতে। ভক্তদের অভিজ্ঞতা শুনলে মনে হয়, যেন তারা নিজেদের জীবনের সবচেয়ে বড় সুখবর কোনো আপনজনের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। বিহারের জামুই জেলার বাসিন্দা বয়স্কা মীরা দেবী জানান, এক সময় তার জীবন ভীষণ সমস্যায় জর্জরিত ছিল, কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কিন্তু অজানা বাবার দরগাহে আসার পর ধীরে ধীরে তার জীবনে পরিবর্তন আসে। সমস্যাগুলি দূর হয়ে যায় এবং তখন থেকেই তিনি বাবার প্রতি ভক্ত হয়ে ওঠেন। মীরা দেবী প্রতি বছর ১৭ই এপ্রিল এখানে এসে তার উপস্থিতি জানান এবং ভক্তি নিবেদন করেন। একইভাবে জামুইয়েরই রेखা দেবীর গল্পও প্রায় একই রকম। তিনি বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে তার জীবন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল, এমনকি তিনি তার স্বামীকেও হারিয়েছিলেন। যখন কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তখন এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে এই দরগাহে আসেন। তার মতে, এখানে আসার পর তার জীবনে স্থিতি ফিরে আসে এবং ধীরে ধীরে সব সমস্যার সমাধান হতে থাকে। আজ তিনি এই মাজারের প্রতি গভীর আস্থা রাখেন। এই দরগাহের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব এর অবস্থান। পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়ার সীমানায় অবস্থিত ডিসেরগড় এলাকায় শেরশাহ বাবার মাজার থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে, নদীর মাঝে একটি দ্বীপে এই মাজারটি অবস্থিত। চারদিকে জল আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই স্থান যেন এক রহস্যময় জগতের অনুভূতি দেয়। এখানে পৌঁছানোর জন্য কোনো সরাসরি রাস্তা নেই—ভক্তদের নৌকার সাহায্য নিতে হয়, অথবা জল কম থাকলে হেঁটেই নদী পার হয়ে যেতে হয়। মাজার কমিটির সদস্য চাঁদ খান জানান, এই দরগাহ প্রায় ৭০-৭৫ বছরের পুরোনো। তার কথায়, তাদের পূর্বপুরুষরা এই দ্বীপে দুটি কবর দেখতে পান। এই কবরগুলির পরিচয় সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও, স্থানীয় মানুষ ও শেরশাহ বাবার মাজারের কিছু খাদিম স্বপ্নে এর ইঙ্গিত পান। এরপর সেই কবরগুলির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করা হয় এবং এখানে জিয়ারত শুরু হয়। পরিচয় অজানা থাকার কারণেই এই দুটি কবরকে ‘অজানা বাবা’ নামে ডাকা শুরু হয়। ধীরে ধীরে এই নামই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং সবাই এই নামেই তাদের চেনে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই কবরগুলি কোনো বড় পীর বা ওলির হতে পারে। ভক্তদের মানত পূরণ হওয়ার ঘটনাগুলি এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মাজারের খ্যাতি দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ এটি ডিসেরগড়ের শেরশাহ বাবার মাজারের মতোই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ দিনে এখানে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। ঘন জঙ্গলের মাঝেও শত শত মানুষ দূরদূরান্ত থেকে এখানে আসেন—যা প্রমাণ করে যে বিশ্বাসের সামনে ভৌগোলিক বাধা কোনো গুরুত্ব রাখে না। অজানা বাবার এই মাজার শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি সেই অটুট বিশ্বাসের প্রতীক, যা মানুষকে কঠিন পরিস্থিতিতেও আশার আলো দেখায়। এখানে আসা প্রতিটি ভক্তের মনে একটাই অনুভূতি—অজানা বাবার প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং মনের ইচ্ছা পূরণের আশা।

फोटो गैलरी

5 तस्वीरें
Gallery image 1
Gallery image 2
Gallery image 3
+ 2और तस्वीरें
Abdul Haque
Abdul Haque

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
12 टिप्पणियां
অজানা বাবার সেই মাজার, যেখানে পথ না থাকলেও প্রতিদিন শত শত ভক্ত পৌঁছে যান নিজেদের মনের ইচ্ছা নিয়ে | Nirbhik Bangla | নির্ভীক বাংলা