কুলটির নিয়ামতপুর হরিজন পাড়ায় সকাল থেকেই একটি বিশাল পুলিশি অভিযান চলছে। আসানসোল থেকে শ্যাম দাসের পাঠানো এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি এই এলাকাটি সাইবার অপরাধের একটি বড় হটস্পট হিসেবে প্রশাসনের নজরে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে এই অঞ্চলের বেশ কয়েকজন যুবকের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত একাধিক চাঞ্চল্যকর সাইবার প্রতারণা এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের একটি বিশাল বাহিনীর নেতৃত্বে আসানসোল সাইবার ক্রাইম থানা এবং কুলটি থানার যৌথ উদ্যোগে আজ একটি হঠাৎ ও ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
একাধিক সাইবার অপরাধীর শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই হরিজন পাড়ায় হঠাৎ পুলিশি হানার পর, গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং পথচলতি মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযানটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরিকল্পনা করা হয়েছিল যাতে অপরাধীরা সতর্ক হওয়ার কোনো সুযোগ না পায়। অনুমান করা হচ্ছে, তল্লাশির সময় বেশ কিছু সন্দেহজনক ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল ফোন, সিম কার্ড এবং জাল নথিপত্র বাজোপ্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক অভিযানে পুলিশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে যাদের বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন যে তারা ঠিক কী ধরনের সাইবার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এবং আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক কোনো চক্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে কি না। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই চক্রের মূল হোতারা ধরা না পড়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

