Nirbhik Bangla
दुर्गापुर

দুর্গাপুরে বন্ধ বাড়িতে লক্ষাধিক টাকার গয়না চুরি, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
24 सितंबर 2026 को 09:08 am बजे
WhatsApp
দুর্গাপুরে বন্ধ বাড়িতে লক্ষাধিক টাকার গয়না চুরি, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
সপরিবারে বিদেশ ভ্রমণে শিক্ষক। দুর্গাপুরের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় খোয়া গেল প্রায় ৬ লক্ষ টাকার গয়না। দুর্গাপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর: আনন্দময় বিদেশ ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফিরে আসার আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে পরিণত হলো এক স্কুল শিক্ষকের জীবনে। সপরিবারে বিদেশ ভ্রমণে যাওয়ার সুযোগে দুর্গাপুরের এক শিক্ষকের বাড়িতে ঘটে গেল এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। ফাঁকা বাড়ির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা সুকৌশলে আলমারি ভেঙে সর্বস্ব লুঠ করে চম্পট দেয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের সাধারণ মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার বড়োসড়ো প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের কাঁকসা থানার অন্তর্গত সারদাপল্লী এলাকার বাসিন্দা হলেন পেশায় স্বনামধন্য স্কুল শিক্ষক উপেন্দ্র কুমার সিনহা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর তিনি ব্যাঙ্গালোরে কর্মরত তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে বিদেশ ভ্রমণে রওনা দেন। এই বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের হলেও, বাড়িটি ফাঁকা রাখার বিষয়টি নিয়ে তিনি যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন। সেই কারণে নিজের অবর্তমানে বাড়ির দেখভাল করা এবং রাতে ঘুমানোর জন্য স্থানীয় এক পরিচিত ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষক মহাশয়ের বিদেশ ভ্রমণ শেষ করে ব্যাঙ্গালোর হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে দুর্গাপুরের নিজ বাসভবনে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তার ঠিক একদিন আগে। সোমবার গভীর রাতে সংঘটিত হয় এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। মঙ্গলবার সকালে যে ব্যক্তিকে বাড়িতে রাতে শোওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনি শিক্ষক উপেন্দ্র কুমার সিনহাকে ফোন করে জানান যে তাঁর বাড়িতে এক বড়ো ধরনের চুরি হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, ওই ব্যক্তি ভিডিও কলের মাধ্যমে শিক্ষককে চুরির প্রাথমিক পরিস্থিতিও দেখান। ওই ব্যক্তির দাবি অনুযায়ী, সোমবার রাতে তিনি ব্যক্তিগত ও অনিবার্য কারণে বাড়িতে ঘুমাতে আসতে পারেননি। এরপর মঙ্গলবার সকালে তিনি যখন বাড়িটি দেখতে আসেন, তখনই মূল দরজার তালা ভাঙা ও ঘরের ভেতরের লন্ডভন্ড অবস্থা দেখে চুরির বিষয়টি পরিষ্কার বুঝতে পারেন এবং দ্রুত শিক্ষককে খবর দেন। এই দুঃসংবাদ পাওয়ার পরেই যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে সুদূর ব্যাঙ্গালুরুতে থাকা শিক্ষক দম্পতির। বিদেশ ভ্রমণের সমস্ত আনন্দ নিমেষেই কর্পূরের মতো উবে যায়। তাঁরা তৎক্ষণাৎ সমস্ত পরিকল্পনা বাতিল করে বিমান ধরে দ্রুত দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ি ফিরে এসে তাঁরা যে দৃশ্য দেখেন, তাতে তাঁদের বুক ফেটে কান্না আসে। ঘরের আলমারি সম্পূর্ণ ভাঙা এবং সমস্ত জামাকাপড় ও মূল্যবান জিনিসপত্র মেঝেতে এদিক-ওদিক ছটিয়ে পড়ে রয়েছে। চোরেরা অত্যন্ত সুচারুভাবে আলমারিতে থাকা সমস্ত সোনা ও রূপোর গয়না সহ প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার বহুমূল্য সম্পত্তি লুঠ করে নিয়ে গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শিক্ষক উপেন্দ্র কুমার সিনহা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন। তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'কখনো ভাবতেও পারিনি যে বিদেশ থেকে আনন্দের ছুটি কাটিয়ে ফিরে এমন এক দুঃস্বপ্নের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। আমার ও আমার পরিবারের সমস্ত কষ্টার্জিত সঞ্চয়, বিশেষ করে আমার স্ত্রী ও ছেলের গয়না এভাবে চোখের নিমেষে চুরি হয়ে গেল। এই ঘটনার পর আমরা নিজেদের চরম নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি এবং মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছি।' শিল্পাঞ্চলের একজন সচেতন নাগরিক ও শিক্ষক হিসেবে তাঁর এই অসহায় অবস্থা দেখে প্রতিবেশীরাও সমবেদনা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দুর্গাপুর এবং তার আশেপাশের শিল্পাঞ্চল এলাকায় এই ধরনের ফ্লাটবাড়ি বা তালাবন্ধ বাড়িতে চুরির ঘটনা যেন বর্তমানে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা কর্মব্যস্ততা বা ছুটির দিনে সপরিবারে কোথাও বেড়াতে গেলেই বা বাড়ি ফাঁকা থাকলে যে দুষ্কৃতীরা সুযোগ নিচ্ছে, তা এই ঘটনার মাধ্যমেই বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের নিয়মিত টহলদারি এবং রাত্রিকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। সাধারণ মানুষের দাবি, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগেই অপরাধীরা এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ঘটনার খবর পেয়েই শিক্ষক উপেন্দ্র কুমার সিনহা কাঁকসা থানায় গিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুষ্কৃতীদের ধরতে ফিঙ্গার প্রিন্ট বিশেষজ্ঞ এবং প্রয়োজনে ডগ স্কোয়াডের সাহায্য নেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়ির আশেপাশের ও রাস্তার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে কাঁকসা থানার পুলিশ। দ্রুত চোরদের গ্রেপ্তার ও খোয়া যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তবে, ঘনঘন এমন চুরির ঘটনায় দুর্গাপুরের সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা এখনও পুরোপুরি বজায় রয়েছে। প্রশাসন এই বিষয়ে কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশি টহল আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
टैग:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
12 टिप्पणियां