Nirbhik Bangla
आसनसोल

তিনবার ধস নামলেও উদাসীন ইসিএল কর্তৃপক্ষ, ক্ষোভে ফুটছে জামুড়িয়ার বাউরী পাড়া

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
24 सितंबर 2026 को 08:50 am बजे
WhatsApp
তিনবার ধস নামলেও উদাসীন ইসিএল কর্তৃপক্ষ, ক্ষোভে ফুটছে জামুড়িয়ার বাউরী পাড়া
জামুড়িয়া: গত দুই দিন ধরে চলা অবিরাম বৃষ্টির জেরে আসানসোল ইসিএল এলাকার জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত নিউ কেন্দা তিন নম্বর বাউরী পাড়া মনসা মন্দিরের নিকট ফের একবার তীব্র ধস নামার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাড়ে বিকট শব্দে জমি বসে যাওয়ার ফলে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিগত কয়েকদিনের নিম্নচাপের জেরে হওয়া লাগাতার বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যার ফলে এই ধসের পরিধি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইসিএল (ECL) কেন্দা অঞ্চলের অন্তর্গত নিউ কেন্দা কোলিয়ারির তিন নম্বর বাউরী পাড়া মা মনসা মন্দিরের নিকট বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় পাঁচটার দিকে এই মারাত্মক ধস নামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এই বিপত্তি ঘটে। এর আগেও এই এলাকায় ধস নামার নজির রয়েছে, ফলে নতুন করে এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এত বড় একটি দুর্ঘটনার পরও দীর্ঘক্ষণ ইসিএল (ECL) কর্তৃপক্ষের কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে না পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

এই ধস ও ইসিএল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা রামকৃষ্ণ বাউরী বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও উদাসীনতার ফল। যার কারণে আজ শত শত পরিবার মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, এই ধসপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে ইসিএল কর্তৃপক্ষ পূর্বে মোট ১৪৪টি পরিবারকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় মানুষ আজও অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। অবিলম্বে এই পরিবারগুলির স্থায়ী ও নিরাপদ পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বাউরী সমাজ শিক্ষা সমিতির প্রতিনিধি হরেকৃষ্ণ বাউরী জানান, আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে নিউ কেন্দা মনসা মন্দিরের কাছে প্রথমবার ধস নামে। এরপর থেকে এই নিয়ে পর পর তিনবার ওই এলাকায় ধস নামার ঘটনা ঘটল। কিন্তু ইসিএল কর্তৃপক্ষ প্রতিবারই নামমাত্র কিছু কাঁটাতারের বেড়া দিয়েই তাদের দায় সেরেছে, কোনো স্থায়ী বা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ধস এলাকার নিকটবর্তী কয়েকটি পরিবারকে ইস্ট কেন্দা ইসিএল আবাসনে সাময়িকভাবে স্থানান্তরিত করা হলেও, এখনও পর্যন্ত তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়নি। ইসিএল প্রশাসনের এই খামখেয়ালি মনোভাব ও জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে আগামী দিনে বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় অপর এক বাসিন্দা ক্রান্তি বাউরী জানান, যে স্থানটিতে ধস নেমেছে তার পাশ দিয়েই এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূল রাস্তাটি গিয়েছে। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন শত শত সাধারণ মানুষ, স্কুলপড়ুয়া ও শ্রমিক যাতায়াত করেন। এছাড়া, ধস এলাকার ঠিক পাশেই রয়েছে একটি স্থানীয় ফুটবল মাঠ, যেখানে প্রতিদিন বহু শিশু ও কিশোর খেলাধুলা করতে এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করে। ফলে সবসময়ই বড় ধরনের কোনো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা বজায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ধস কবলিত মাটির গর্তের ভেতর থেকে প্রায়শই এক অদ্ভুত ও ভীতিপ্রদ শব্দ শোনা যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্ককে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই কোনো বড় বিপর্যয় ঘটার আগেই ইসিএল কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করে অবিলম্বে সমস্ত বিপদগ্রস্ত পরিবারকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রশাসন ও কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষের এই দীর্ঘসূত্রিতা শেষ পর্যন্ত কোনো বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
टैग:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
12 टिप्पणियां