Asansol
আইনজীবীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, আসানসোল দক্ষিণ থানার নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে সরব শম্পা সরকার

নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল: পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন আসানসোল আদালতের বিশিষ্ট আইনজীবী তথা প্রাক্তন কংগ্রেস কাউন্সিলর শম্পা সরকার। মঙ্গলবার দুপুরে আসানসোল রবীন্দ্র ভবনের কফি হাউসে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি তার পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করার উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি এবং নিজের জীবনের ওপর প্রাণঘাতী হামলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে শম্পা দেবী বিস্তারিতভাবে জানান যে, আসানসোল দক্ষিণ থানার অন্তর্গত এস বি গড়াই রোডের ওপর তাদের একটি পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে। সেই সম্পত্তির একটি অংশে তারও বৈধ অধিকার ও অংশীদারিত্ব রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেই অংশটি বলপূর্বক দখল করার হীন উদ্দেশ্যে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মোট নয়টি জাল দলিল বা ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করেছে বলে অভিযোগ। এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং জালিয়াতির প্রতিকার চেয়ে তিনি ইতিপূর্বে আসানসোল দক্ষিণ থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ বা তদন্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করে যখন গত কিছুদিন আগে তার মালিকানাধীন অংশে একটি নতুন অফিস তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় চেয়ার ও টেবিল রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, আচহকাই একদল দুষ্কৃতী সেই অফিসে চড়াও হয় এবং জোর করে তালা ভেঙে সমস্ত আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। শুধু তাই নয়, তাকে বলপূর্বক ও হুমায়কি দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। এই মর্মান্তিক ও আইনবহির্ভূত ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত হয়ে তিনি দ্রুত আসানসোল দক্ষিণ থানাকে পুরো বিষয়টি আবার জানান। তবে অভিযোগের সুর চড়িয়ে শম্পা সরকার দাবি করেন, বারবার পুলিশকে জানিয়েও কোনো ফল মেলেনি, পুলিশ যথারীতি দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে এবং পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় রয়েছে।
আইনজীবী শম্পা সরকারের এই নিরাপত্তা হীনতা এবং পুলিশি উদাসীনতার অভিযোগ স্থানীয় আইনি মহলে ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তিনি প্রকাশ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, আগামী দিনে যদি তার ওপর কোনো প্রাণঘাতী হামলা হয় বা তাকে খুন করা হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সরাসরি আসানসোল দক্ষিণ থানা এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর বর্তাবে। একজন আইনজীবী ও প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও যদি এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়— সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে আসানসোলে।
Tags:Nirbhikbangla
