Nirbhik Bangla, Asansol: A serious allegation has been made that alleged illegal sand from Jharkhand is entering the West Bengal market under the guise of a legitimate invoice from Bihar. Several people associated with the sand business claim that paddy...

নির্ভীক বাংলা,আসানসোল: বিহারের বৈধ চালানের আড়ালে ঝাড়খণ্ডের কথিত অবৈধ বালি পশ্চিমবঙ্গের বাজারে ঢুকছে—এমনই গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের দাবি, ধানবাদ ও জামতাড়া এলাকার নদীঘাট থেকে তোলা বালি বিহারের গয়া, জামুই এবং ডেহরি অন সোনের চালান ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, দুটি পৃথক রুটে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ ট্রাক বালি বাংলায় ঢুকছে।
যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, অভিযোগগুলি সত্যি হলে তা শুধু অবৈধ বালি উত্তোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। চালান, রয়্যালটি, জিএসটি, ই-ওয়ে বিল এবং আন্তঃরাজ্য বালি পরিবহণের নজরদারি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠতে পারে।
দুই রুটে ৯০০ ট্রাকের দাবি
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধানত দুটি রুটে বালি পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করছে।
প্রথম রুট ধানবাদ–মৈথন–ডুবুডিহি চেকপোস্ট। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, এই পথে প্রতিদিন প্রায় ৬০০টি বালি বোঝাই ট্রাক বাংলায় ঢুকছে।
অন্যদিকে জামতাড়া–চিত্তরঞ্জন রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩০০টি ট্রাক প্রবেশ করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অর্থাৎ, দুই রুট মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ ট্রাক বালি বাংলায় ঢোকার দাবি সামনে এসেছে। এই সংখ্যা সত্যি হলে ৩০ দিনে তা দাঁড়ায় প্রায় ২৭ হাজার ট্রাক।
ট্রাকে ‘KS’ কোড ঘিরে প্রশ্ন
অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু বালি বোঝাই ট্রাকে লাল রঙের চিহ্নের পাশাপাশি ট্রাক নম্বরের সঙ্গে একটি বিশেষ কোডও লেখা থাকছে। ওই কোডের শুরুতে ‘KS’ অক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই কোডের প্রকৃত অর্থ কী, কে বা কোন সংস্থা তা ব্যবহার করছে এবং এটি কোনও সরকারি বা বাণিজ্যিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
বিহারের চালান, বালি কি ঝাড়খণ্ডের?
পুরো অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে বালির চালান।
দাবি করা হচ্ছে, মৈথন–ডুবুডিহি রুটে আসা কিছু ট্রাকে গয়ার চালান, আর জামতাড়া–চিত্তরঞ্জন রুটে আসা কিছু ট্রাকে জামুই ও ডেহরি অন সোনের চালান ব্যবহার করা হচ্ছে।
এখানেই উঠছে মূল প্রশ্ন—চালানে যদি বালির উৎস বিহারের কোনও বৈধ খনন এলাকা দেখানো হয়, তাহলে ট্রাকে থাকা বালি বাস্তবে কোথা থেকে তোলা হয়েছে?
চালান এবং বাস্তব বালির উৎসের মধ্যে কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা জানতে হলে সংশ্লিষ্ট চালান, ই-ওয়ে বিল, রয়্যালটি নথি, গাড়ির জিপিএস তথ্য এবং খনন এলাকার রেকর্ড মিলিয়ে দেখা জরুরি।
৩১ টনের ট্রাকে বড় অঙ্কের মুনাফার দাবি
প্রাপ্ত দাবির হিসাব অনুযায়ী, ১৬ ও ১৮ চাকার ট্রাকে প্রায় ৩১ টন বালি বহন করা হচ্ছে। ১৮ চাকার ট্রাকের জন্য প্রায় ৮৫০ টাকা এবং ১৬ চাকার ট্রাকের জন্য প্রায় ৭৫০ টাকা চালান বাবদ দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আরও দাবি করা হয়েছে, জিএসটি-সহ প্রতি ট্রাকে বালির মোট খরচ প্রায় ১৯,৭৫৬ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
অন্যদিকে বাংলার বাজারে প্রতি টন প্রায় ১,৫০০ টাকা দরে বিক্রি হলে ৩১ টন বালির মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪৬,৫০০ টাকা।
এই হিসাবে দুই অঙ্কের মধ্যে প্রায় ২৬,৭৪৬ টাকার পার্থক্য দেখা যায়। তবে এই হিসাবকে সরাসরি নিট মুনাফা বলা যাবে না। কারণ পরিবহণ, লোডিং-আনলোডিং, টোল, কর, বৈধ রয়্যালটি এবং অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত লাভ কত, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
আসানসোল–দুর্গাপুর হয়ে কলকাতায় পৌঁছনোর দাবি
অভিযোগ, কথিত এই বালি শুধু সীমান্তবর্তী এলাকায় বিক্রি হচ্ছে না। আসানসোল ও দুর্গাপুরের বিভিন্ন বাজার ও স্টক পয়েন্ট হয়ে তা কলকাতার দিকেও যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, স্টক পয়েন্টে বালি প্রায় ১,৪০০ টাকা প্রতি টন দরে বিক্রি হচ্ছে এবং পরিবহণ খরচ আলাদাভাবে নেওয়া হচ্ছে। পরিবহণ-সহ চূড়ান্ত বাজারদর প্রায় ১,৫০০ টাকা প্রতি টন পর্যন্ত হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই সমস্ত দামের তথ্যও সংশ্লিষ্ট বাজারের নথি ও লেনদেনের রেকর্ড যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।
বাজরা ঘাট থেকে বালি উত্তোলনের অভিযোগ
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ধানবাদ ও জামতাড়া এলাকার বাজরা নদীঘাট।
অভিযোগ উঠেছে, ওই এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। যদি অনুমোদন ছাড়াই বালি তোলা হয়ে থাকে এবং পরে অন্য রাজ্যের বৈধ চালান ব্যবহার করে তা পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়ে থাকে, তাহলে খনন ও পরিবহণ—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের অনিয়মের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
তবে বাজরা ঘাট থেকে বালি উত্তোলনের বৈধতা এবং তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে আসা বালির কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা সরকারি নথি ও মাঠপর্যায়ের তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
২৭ হাজার ট্রাকের হিসাব সত্যি হলে নজরদারি কোথায়?
প্রতিদিন ৯০০ ট্রাক প্রবেশের দাবি সত্যি হলে মাসে প্রায় ২৭ হাজার ট্রাকের হিসাব দাঁড়ায়। এত বিপুল সংখ্যক বালি বোঝাই গাড়ির ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে।
প্রতিটি ট্রাকের চালান যাচাই করা হচ্ছে কি?
ই-ওয়ে বিল ও জিএসটি নথির সঙ্গে চালানের তথ্য মিলছে কি?
বালির প্রকৃত উৎস যাচাই করা হচ্ছে কি?
রয়্যালটি যথাযথভাবে জমা পড়ছে কি?
ডুবুডিহি চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন বাস্তবে কতগুলি বালি বোঝাই ট্রাক যাচ্ছে?
জামতাড়া–চিত্তরঞ্জন রুটে কতগুলি বালি বোঝাই গাড়ি ঢুকছে?
বিহারের চালানে ঝাড়খণ্ডের বালি পরিবহণের অভিযোগ সত্যি কি না?
বাজরা ঘাট থেকে বালি উত্তোলনের ক্ষেত্রে বৈধ অনুমতি রয়েছে কি?
তদন্তেই পরিষ্কার হবে আসল ছবি
এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে চালান, ই-ওয়ে বিল, জিএসটি রেকর্ড, রয়্যালটি নথি, গাড়ির নম্বর, জিপিএস তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট খনন এলাকার সরকারি রেকর্ড।
একই গাড়ির গতিবিধি, চালানে উল্লেখিত উৎস এবং বাস্তবে বালি লোড করার স্থান মিলিয়ে দেখলেই অভিযোগের সত্যতা অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে।
এখনও পর্যন্ত প্রতিদিন ৯০০ ট্রাক বালি বাংলায় প্রবেশ করছে কিংবা বিহারের চালানের মাধ্যমে ঝাড়খণ্ডের কথিত অবৈধ বালি পরিবহণ হচ্ছে—এই দাবির স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ সামনে আসেনি।
তবে অভিযোগটি সত্যি হলে বিষয়টি একটি সাধারণ বালি ব্যবসার অনিয়ম নয়; এর সঙ্গে অবৈধ খনন, আন্তঃরাজ্য পরিবহণ, রয়্যালটি, জিএসটি এবং সরকারি রাজস্বের সম্ভাব্য ক্ষতির মতো একাধিক বিষয় জড়িয়ে পড়তে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই একটাই—চালান যদি বিহারের হয়, তাহলে সেই বালির প্রকৃত উৎস কোথায়? আর প্রতিদিন ৯০০ ট্রাক ঢোকার দাবি সত্যি হলে, এত বড় পরিবহণ নেটওয়ার্কের নজরদারি হচ্ছে কীভাবে?