দুর্গাপুরের সাইবার অপরাধ চক্রের শিকড় খুঁজতে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। দুর্গাপুর সিটি সেন্টার ফাঁড়ির পুলিশের বিশেষ দল রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে সাইবার ক্রাইমের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম সাহেব মণ্ডল। তার বাড়ি পুরুলিয়ার নিতুড়িয়া থানা এলাকায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গাপুর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি সাইবার অপরাধের নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল, যার সঙ্গে এই ব্যক্তি সরাসরি যুক্ত থাকতে পারে বলে অনুমান করছেন তদন্তকারীরা।
রবিবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সিটি সেন্টারের ১২ নম্বর রানি রাসমণি সরণি এলাকায় অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে সাহেব মণ্ডলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন আধিকারিকরা। পরে তার কাছ থেকে তল্লাশি চালিয়ে সাইবার অপরাধে ব্যবহৃত একাধিক আপত্তিজনক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ধৃতের কাছ থেকে একটি আধুনিক ল্যাপটপ, সাত থেকে আটটি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের একাধিক পাসবই এবং এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনগুলি সাইবার অপরাধের তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
প্রাথমিক অনুমান, সাধারণ মানুষকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বা ফাঁদে ফেলে অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করত এই চক্র। বিভিন্ন ব্যাঙ্কের পাসবইগুলি খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ লেনদেন করা হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলি কি ভুয়ো নথিপত্র ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল, নাকি সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে এই প্রতারণার ব্যবসা চালাত ধৃত ব্যক্তি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও ল্যাপটপের ডেটা রিট্রাইভ করার জন্য বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশজুড়ে বা রাজ্যজুড়ে এই চক্রের অন্য কোনো সংযোগ রয়েছে কি না তা স্পষ্ট হয়।
সোমবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ধৃত সাহেব মণ্ডলকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে তাকে বিচারপতির সামনে পেশ করা হয়। আদালত সূত্রে খবর, এই সাইবার অপরাধের নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং এই চক্রের মূল মাথা কে, তা জানতে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় পুলিশ। দুর্গাপুর তথা শিল্পাঞ্চলে এই ধরনের সাইবার অপরাধ রুখতে পুলিশ প্রশাসন যে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে, এই গ্রেফতারি তারই স্পষ্ট বার্তা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

