Nirbhik Bangla
State

বিনা বৈধ সার্টিফিকেটে দাপিয়ে চলছে কাসকুলি অবৈধ পাথর খাদান, প্রশাসন নীরব—বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আদিবাসী সমাজের

বিনা বৈধ সার্টিফিকেটে দাপিয়ে চলছে কাসকুলি অবৈধ পাথর খাদান, প্রশাসন নীরব—বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আদিবাসী সমাজে নির্ভীক বাংলা,আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ: আসানসোলের বরাবনি বিধানসভার গো...

Abdul Haque
Abdul Haque
June 3, 2026 at 03:36 AM
WhatsApp
বিনা বৈধ সার্টিফিকেটে দাপিয়ে চলছে কাসকুলি অবৈধ পাথর খাদান, প্রশাসন নীরব—বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আদিবাসী সমাজের
বিনা বৈধ সার্টিফিকেটে দাপিয়ে চলছে কাসকুলি অবৈধ পাথর খাদান, প্রশাসন নীরব—বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আদিবাসী সমাজে নির্ভীক বাংলা,আসানসোল, প|Nirbhik Bangla Photo

বিনা বৈধ সার্টিফিকেটে দাপিয়ে চলছে কাসকুলি অবৈধ পাথর খাদান, প্রশাসন নীরব—বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আদিবাসী সমাজে নির্ভীক বাংলা,আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ: আসানসোলের বরাবনি বিধানসভার গোরান্ডি এলাকার কাসকুলিতে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে চলতে থাকা পাথর খাদান ও ক্রাশার বন্ধ হওয়ার কোনও লক্ষণ নেই। রাজ্য সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কোনও বৈধ অনুমতি বা সার্টিফিকেট ছাড়াই এই খাদান ও ক্রাশার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগে ভারত জাকাত মাঝি পরগনা সংগঠনের ব্যানারে স্থানীয় আদিবাসী সমাজ পশ্চিম বর্ধমান জেলা শাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেয়। সেখানে অবিলম্বে কাসকুলিতে চলা অবৈধ পাথর খাদান বন্ধের দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এই অবৈধ খাদানের কারণে গোটা এলাকায় মারাত্মক দূষণ ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি পাথর ভাঙার জন্য নিয়ম বহির্ভূত বিস্ফোরণ চালানো হচ্ছে, যার ফলে এলাকাবাসীর জীবন ও সম্পত্তি চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, খাদানের সম্প্রসারণের জন্য নির্বিচারে সবুজ গাছ কেটে বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে, যার ফলে আদিবাসী সমাজের জল, জঙ্গল ও জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দূষণের কারণে অনেকের শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। আদিবাসী সমাজের অভিযোগ, এই অবৈধ পাথর খাদানের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই পুলিশ ও রাজনৈতিক মহলের তরফে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতিতে অতিষ্ঠ হয়ে এবার তারা বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। সূত্রের খবর, বরাবনি গোরান্ডির কাসকুলিতে চলা এই অবৈধ পাথর খাদান ও ক্রাশারের মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে এক শ্রেণির পাথর মাফিয়া রাজ্য সরকারের সমস্ত নিয়মকে উপেক্ষা করে এই বেআইনি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। জানা গেছে, রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী পাথর খাদান চালাতে হলে আবেদনকারীর ন্যূনতম সাড়ে সাত বিঘা জমি থাকতে হয় এবং তার মধ্যে নির্দিষ্ট অংশ আবেদনকারীর নিজের নামে রায়তি জমি হতে হয়। এরপর বন দপ্তর ও ভূতত্ত্ব দপ্তরের নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট নিয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেলস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের কাছে আবেদন করতে হয়। একাধিক দপ্তরের যাচাই, সিটিই, সিটিও, ডিজিএমএস-এর অনুমতি এবং সরকারি চালান ছাড়া কোনওভাবেই পাথর খাদান আইনত চালানো সম্ভব নয়। অভিযোগ, কাসকুলিতে চলা খাদানগুলির ক্ষেত্রে এই একটিও নিয়ম মানা হচ্ছে না। দিনের বেলায় পাথর কাটার কাজ চলে এবং রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে পাথর পরিবহণ করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, একাধিকবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলির পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রশাসনের নীরবতা নিয়েই এখন তীব্র প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আদিবাসী সমাজ।

Abdul Haque
Abdul Haque

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
12 Comments
বিনা বৈধ সার্টিফিকেটে দাপিয়ে চলছে কাসকুলি অবৈধ পাথর খাদান, প্রশাসন নীরব—বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আদিবাসী সমাজের | Nirbhik Bangla | নির্ভীক বাংলা