Nirbhik Bangla
Paschim Bardhaman

ধেমোমেনে ইসিএলের জমিতে মেগা উচ্ছেদ অভিযান, প্রশাসনিক তোপের মুখে প্রভাবশালী প্রাক্তন কাউন্সিলরের পরিবার

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
October 25, 2026 at 10:10 AM
WhatsApp
ধেমোমেনে ইসিএলের জমিতে মেগা উচ্ছেদ অভিযান, প্রশাসনিক তোপের মুখে প্রভাবশালী প্রাক্তন কাউন্সিলরের পরিবার
আদালতের কঠোর নির্দেশকে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত করতে এবং সরকারি তথা জনস্বার্থের সম্পত্তি উদ্ধারে আসানসোলে এক বড়সড় ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করল জেলা প্রশাসন ও ইসিএল কর্তৃপক্ষ। ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড বা ইসিএলের (ECL) মূল্যবান জমিতে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অফিস বুলডোজার চালিয়ে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। রবিবার সকাল থেকেই এই মেগা উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে আসানসোলের ধেমোমেন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, আসানসোল পুরনিগমের তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রভাবশালী প্রাক্তন কাউন্সিলর বা জনপ্রতিনিধি সঞ্জয় নুনিয়ার বাবা রোহিত নুনিয়ার নামেই এই জবরদখলের অভিযোগ ছিল। ধেমোমেনের ব্যস্ত রাস্তার পাশের একটি অত্যন্ত বহুমূল্য সরকারি জমি বেআইনিভাবে দখল করে এই বিলাসবহুল অফিস নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘকাল ধরেই স্থানীয় মানুষ ও সচেতন মহলের একাংশ এই জবরদখল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। অবশেষে আদালতের স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশ হাতে পাওয়ার পরই রবিবার সকালে নড়েচড়ে বসে আসানসোল প্রশাসন ও ইসিএল কর্তৃপক্ষ।

এদিনের এই সংবেদনশীল ও বড়সড় উচ্ছেদ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজ্য পুলিশের একটি বিশাল বাহিনী, ইসিএলের নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষী, সেন্ট্রাল ইন্ডিয়ান সিকিউরিটি ফোর্স বা সিআইএসএফ (CISF)-এর জওয়ানরা, ইসিএলের পদস্থ আধিকারিক এবং জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এই ত্রিস্তরীয় যৌথ বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার বলয়ের মধ্যেই বুলডোজার দিয়ে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে শুরু হয়।

অবশ্য, আইনসম্মতভাবে ও মানবাধিকারের দিকটি বিবেচনা করে অভিযান শুরুর আগে দখলদারদের কিছু সময় দেওয়া হয়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অফিসের ভেতর থাকা সমস্ত বহুমূল্য আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও অন্যান্য জিনিসপত্র রোহিত নুনিয়ার লোকজন ট্রাক্টর ও ছোট গাড়িতে করে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেন। সমস্ত জিনিসপত্র নিরাপদে বের করে নেওয়ার পর অফিসটিকে সম্পূর্ণ খালি করা হয় এবং তারপরেই প্রশাসনের উপস্থিতিতে বুলডোজার চালিয়ে সেটিকে এক লহমায় মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

ইসিএল ম্যানেজমেন্ট সূত্রে আরও বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে, ধেমোমেন কলিয়ারি এলাকার অন্তর্গত মৌজা বড়ধেমো, যার জেএল নম্বর-০৫ এবং নির্দিষ্ট প্লট নম্বর ১০২২, সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়লা বলয়ের জমিতেই এই অবৈধ নির্মাণ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। সঞ্জয় নুনিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে সমস্ত আইন ও নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই জমি দখল করে রাখা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ মেনেই শেষ পর্যন্ত ইসিএল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই জবরদখল মুক্ত করার অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করে।

এদিকে, প্রশাসনের এই সাহসী ও কঠোর ভূমিকাকে একবাক্যে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দারা। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে এ ধরনের অনৈতিক কারবার ও ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার প্রবণতা রোধে এই ধরনের বুলডোজার নীতি অত্যন্ত জরুরি ছিল। সাধারণ মানুষের আশা, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি কঠোর বার্তা গেল এবং আগামী দিনেও ইসিএলের অন্যান্য বেদখল হওয়া জমিও একইভাবে ও নিরপেক্ষভাবে উদ্ধার করতে প্রশাসন তৎপর হবে।
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
12 Comments