Asansol
অনিয়ন্ত্রিত টোটো ও অটো রুখে মিনিবাস বাঁচাতে আসানসোলে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

আসানসোল: শিল্পাঞ্চল আসানসোল শহর ও তার সংলগ্ন এলাকাগুলিতে টোটো এবং অটোর অনিয়ন্ত্রিত দাপটের জেরে এবার চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে মিনিবাস পরিষেবা। বাস রুটগুলিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে টোটো ও অটো চলাচলের কারণে যাত্রীসংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছে, যার ফলে প্রতিদিন বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন মিনিবাস মালিক ও পরিবহন কর্মীরা। এই জটিল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে এবং ঐতিহ্যবাহী মিনিবাস পরিষেবা বজায় রাখতে পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসকের দপ্তরে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে আসানসোল মিনিবাস সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও ক্ষোভের কথা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। মিনিবাস সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ রায় প্রশাসনিক বৈঠকে অভিযোগ করে বলেন, "নির্দিষ্ট রুট পারমিট তো দূর অস্ত, কোনো ট্রাফিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই শহরের প্রধান প্রধান রুটগুলিতে টোটো ও অটো চলাচল করছে। বাসের ঠিক আগে আগে গিয়ে যাত্রী তুলে নেওয়া হচ্ছে। ফলে মিনিবাসের ড্রাইভার ও কন্ডাক্টররা দিনশেষে ন্যূনতম মজুরিও তুলতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে গাড়ির ইএমআই, জ্বালানির খরচ এবং কর্মচারীদের বেতন দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, দ্রুত যদি এই বেআইনি যান চলাচলের ওপর রাশ না টানা হয় এবং নির্দিষ্ট নিয়মবিধি প্রণয়ন না করা হয়, তবে শহরের একাধিক ব্যস্ততম রুটে মিনিবাস পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
মিনিবাস সংগঠনের অভিযোগ শোনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস. পন্নবলম, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার সহ জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনার যৌথভাবে জানান, শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখা এবং বৈধ দূরপাল্লার ও লোকাল বাস পরিষেবাকে সুরক্ষামূলক সুবিধা দেওয়া প্রশাসনের অগ্রাধিকার। শীঘ্রই শহরের মূল রাস্তাগুলিতে অনিয়ন্ত্রিত টোটো ও অটো নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে এবং নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণের বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে।
প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর মিনিবাস মালিকরা আপাতত পরিস্থিতি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আসানসোলের গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড়সড় অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিজ্ঞ মহল।
