পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুরিয়া থানার অন্তর্গত বেনালি গ্রামের মুসলিম পাড়ায় এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গৃহকর্তা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে তালা ভেঙে আলমারি থেকে কয়েক ভরি সোনার গয়না এবং নগদ কয়েক লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতীর দল। শুধু তাই নয়, চুরি করার সময় ঘরে বসে নিশ্চিন্তে চা-বিস্কুটও খেয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। একই রাতে ওই এলাকাতেই একটি গ্রাহক সেবা কেন্দ্র (CSP Center)-এও চুরির ঘটনা ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেনালি গ্রামের বাসিন্দা কাজী ইলিয়াস তাঁর পরিবারকে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। পুরো বাড়িটি খালি থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে গতকাল রাতে দুষ্কৃতীদের একটি দল বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর মূল দরজার তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে শোয়ার ঘরের আলমারি ও খাট খুলে পুরো ঘর তছনছ করে দেয়। অভিযোগ, আলমারিতে রাখা আনুমানিক ৩ থেকে ৪ ভরি সোনার গয়না এবং নগদ আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা হাতিয়ে চম্পট দেয় চোরের দল। দুষ্কৃতীদের এই দুঃসাহসিক কাণ্ড দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন তদন্তকারীরাও।
পরদিন সকালে বাড়ির কাজের মহিলা কাজে এসে দরজার ভাঙা তালা দেখে বিষয়টি টের পান। তিনি অবিলম্বে গৃহকর্তার ভাই কাজী মোজাম্মেলকে খবর দেন। পরিবারের লোকজন এসে দেখেন, ঘরের সব জিনিসপত্র লন্ডভন্ড অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই জামুরিয়া থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
গৃহকর্তার ভাই কাজী মোজাম্মেল জানান, "দাদা পরিবার নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সকালে কাজের মেয়ে এসে প্রথম তালা ভাঙা দেখতে পায়। আমাদের খবর দিলে আমরা এসে দেখি পুরো বাড়ি তছনছ। যে বা যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা বাড়ির সমস্ত খবরাখবর রাখত। এর পেছনে একটি সুসংগঠিত চোরের গ্যাং রয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।"
একই রাতে ওই বাড়ির অদূরে অবস্থিত একটি সিএসপি সেন্টারেও চুরির ঘটনা ঘটায় পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই দুষ্কৃতী দল দুটি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে জামুরিয়া থানার পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় দুষ্কৃতীদের তালিকা ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
Crime
জামুরিয়ায় দুঃসাহসিক চুরি: ঘর ফাঁকা করে সোনা-টাকা লুটের পাশাপাশি চা-বিস্কুটও খেল চোরেরা

Tags:Nirbhikbangla
