দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে (এএসপি) ১৯৬ জন চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকের গেট পাস আচমকা বাতিল করার অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদে এবং ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের অবিলম্বে কাজের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বুধবার কারখানা চত্বরে যৌথ বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় দুই কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ (CITU) এবং আইএনটিইউসি (INTUC)।
শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের কোনো রকম আগাম নোটিস ছাড়াই আচমকা ১৯৬ জন শ্রমিকের গেট পাস কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অমানবিক। বর্তমানে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে মোট প্রায় ১১৯৬ জন চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা বজায় রাখতে এই শ্রমিকরা মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেন। অথচ তাঁদের চাকরির কোনো স্থায়িত্ব নেই। এদিন বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে অবিলম্বে ওই ১৯৬ জন শ্রমিকের গেট পাস ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের চাকরির স্থায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং শিল্পক্ষেত্রে স্বাভাবিক শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক বজায় রাখার দাবি জোরদার করা হয়।
বুধবারের এই বিক্ষোভের জেরে কারখানার একাধিক মূল বিভাগে কাজ পুরোপুরি থমকে যায়। শ্রমিক সংগঠনগুলির সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন কারখানার স্টিল মেল্টিং শপ বা SMS (OP), ক্রেন বিভাগ, কন্ডিশনিং এবং BBM (OP) বিভাগে পুরোপুরি কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে কারখানার সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলিতে উৎপাদন ও স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এদিনের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এএসপি আইএনটিইউসি-র জেনারেল সেক্রেটারি প্রদীপ দত্ত বলেন, "কর্তৃপক্ষের এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব না। অবিলম্বে শ্রমিকদের গেট পাস ফেরত না দিলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।" অন্যদিকে সিআইটিইউ নেতা নবায়েন্দু সরকার তোপ দেগে বলেন, "শ্রমিকদের রুটিরুজি কেড়ে নিয়ে কারখানা চালানো যাবে না। কর্তৃপক্ষের অসংবেদনশীল নীতির বিরুদ্ধে আমাদের এই যৌথ লড়াই জারি থাকবে।" যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্য দিকে, কারখানার এই অভ্যন্তরীণ অচলাবস্থা ও শ্রমিক অসন্তোষের খবর পৌঁছাতেই রাজনৈতিক স্তরেও তৎপরতা শুরু হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ও কারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আজ স্থানীয় বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘড়ুই এএসপি (ASP) উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে বসবেন বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে বঞ্চিত শ্রমিকদের গেট পাস সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং কারখানায় স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ পুনর্বহাল করার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। এখন দেখার, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বৈঠকের পর বরফ গলে কিনা।

