Nirbhik Bangla
Lifestyle

আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিতা পাল পেশ করলেন পাঁচ বছরের রিপোর্ট কার্ড, তুলে ধরলেন ২০২১–২০২৬ উন্নয়নের গতি

আসানসোল: গত পাঁচ বছরে (২০২১–২০২৬) আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক শ্রীমতি অগ্নিমিতা পাল বৃহস্পতিবার ডলিলজে অবস্থিত তাঁর বিজেপি কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে একটি রিপ...

Abdul Haque
Abdul Haque
July 17, 2026 at 09:36 AM
WhatsApp
আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিতা পাল পেশ করলেন পাঁচ বছরের রিপোর্ট কার্ড, তুলে ধরলেন ২০২১–২০২৬ উন্নয়নের গতি
আসানসোল: গত পাঁচ বছরে (২০২১–২০২৬) আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক শ্রীমতি অগ্নিমিতা পাল বৃহস্পতিবার ডলিলজে অবস্থিত তাঁর বিজেপি কার|Nirbhik Bangla Photo

আসানসোল: গত পাঁচ বছরে (২০২১–২০২৬) আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক শ্রীমতি অগ্নিমিতা পাল বৃহস্পতিবার ডলিলজে অবস্থিত তাঁর বিজেপি কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে একটি রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেন। এই রিপোর্ট কার্ডে তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের দাবি করেছেন। এই সময়কালে অবকাঠামো থেকে শুরু করে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি জানান। তাঁর দাবি অনুযায়ী, রেল ও পরিবহন ক্ষেত্রে বার্নপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নম্বর ২-এ লিফট স্থাপন, মহিলাদের জন্য শৌচাগার এবং সাইকেল স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোভিড সময় থেকে বন্ধ থাকা আসানসোল–পুরুলিয়া মেমু ট্রেন পুনরায় চালু হওয়ায় যাত্রীদের বড় স্বস্তি মিলেছে। ধর্মীয় স্থানের উন্নয়নেও বিস্তর কাজ হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে দুর্গা, কালী, শিব, হনুমানসহ নানা মন্দিরে ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে ভক্তরা সুবিধা পান। নরসিংহ বাঁধ, তামরা, কালিপাহাড়ি, ধেনুয়া, বরাচকসহ একাধিক এলাকায় মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নত করা হয়েছে। মণ্ডল ৪-এর গ্রামীণ এলাকায় মনসা মন্দির, ভারতমাতা মন্দির এবং কালী মন্দিরেরও উন্নয়ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও আলোর ক্ষেত্রে প্রায় ২.৭৮ কোটি টাকার ব্যয়ে প্রায় ৮৪৬টি সোলার লাইট বসানো হয়েছে। রানিগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে এই লাইট বসানোর ফলে অন্ধকার এলাকায় আলো পৌঁছেছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় হাইমাস্ট লাইটও বসানো হয়েছে। শ্মশান ঘাট নির্মাণ ও সংস্কারেও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৩.২৪ লক্ষ টাকার ব্যয়ে বার্নপুর ও অন্যান্য এলাকায় পাকা শ্মশান ঘাট তৈরি করা হয়েছে, যাতে মানুষের শেষকৃত্যের জন্য ভালো পরিকাঠামো তৈরি হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা করা হয়েছে। ১০টি লাইব্রেরিতে ৫০,০০০ টাকার বই দেওয়া হয়েছে এবং ৮টি স্কুলে ১৪টি কম্পিউটার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইথুড়া রেলওয়ে স্কুল পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং ফি কমানো হয়েছে, ফলে স্থানীয় ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হয়েছে। পানীয় জলের সমস্যার সমাধানে প্রায় ১৪.৮৪ লক্ষ টাকার ব্যয়ে সাবমার্সিবল পাম্প, জলাধার এবং ২৮০ ফুট গভীর বোরওয়েল বসানো হয়েছে। পাশাপাশি দুটি জায়গায় জল ভেন্ডিং মেশিনও স্থাপন করা হয়েছে। অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় শেড নির্মাণ, খেলাধুলার মাঠের সৌন্দর্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত। নরসিংহ বাঁধের খেলার মাঠ উন্নত করা হয়েছে। রেলের সহযোগিতায় দামোদর আন্ডারপাস এবং বড়খেলা এলাকায় ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। বিধায়ক তহবিল থেকে ২০০টির বেশি হেলমেট এবং অন্যান্য উৎস থেকে আরও ১৫০টির বেশি হেলমেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ডাস্টবিন, পাইপলাইন এবং ক্রীড়া সামগ্রীও বিতরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে চিকিৎসা শিবিরের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্যামডিহি রোলার মিল এলাকা থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত আন্ডারপাসের অনুমোদন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জনস্বার্থের বিষয়েও বিধায়ক সক্রিয় ছিলেন। অবৈধ বালু পরিবহণ, ধর্ষণ, খনি দুর্ঘটনা এবং সামাজিক অবিচারের ঘটনায় তিনি সরব হয়ে ন্যায়বিচারের চেষ্টা করেছেন। সব মিলিয়ে, গত পাঁচ বছরে অগ্নিমিতা পালের নেতৃত্বে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজের একটি বিস্তৃত চিত্র উঠে এসেছে, যা এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Abdul Haque
Abdul Haque

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
12 Comments
আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিতা পাল পেশ করলেন পাঁচ বছরের রিপোর্ট কার্ড, তুলে ধরলেন ২০২১–২০২৬ উন্নয়নের গতি | Nirbhik Bangla | নির্ভীক বাংলা