শ্যাম দাস, আসানসোল: টোটোর অনিয়ন্ত্রিত বাড়বাড়ন্ত এবং তার জেরে সৃষ্টি হওয়া যাত্রী সংকট ও বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে অবশেষে অনির্দিষ্টকালের মিনিবাস ধর্মঘটের ডাক দিলেন আসানসোলের বারাবনির মিনিবাস চালকরা। বুধবার এই ধর্মঘটের জেরে বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র যানজট ও চরম যাত্রী দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে বারাবনি ও তার আশেপাশের এলাকায় প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে হু হু করে বাড়ছে টোটোর সংখ্যা। কোনো রকম সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা রুট গাইডলাইন ছাড়াই প্রধান রাস্তাগুলিতে টোটো চলাচল করায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মিনিবাস পরিষেবা। বাসের যাত্রীরা সহজেই টোটোয় যাতায়াত করায় মিনিবাসের দৈনিক আয় তলানিতে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি, ওভারটেকিং এবং রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করানোকে কেন্দ্র করে টোটো চালকদের সঙ্গে মিনিবাস চালকদের প্রায় প্রতিদিনই বচসা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছিল। এই ক্রমবর্ধমান অরাজকতা ও পেশাগত নিরাপত্তাহীনতার জেরে বাধ্য হয়েই চালকরা পরিষেবা বন্ধ রাখার চরম সিদ্ধান্ত নেন।
আন্দোলনরত মিনিবাস চালকদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনকে এলাকার টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং মিনিবাসগুলির জন্য একটি সুস্থ ও প্রতিযোগিতাহীন পরিবেশ তৈরি করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কাজে ফিরবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে হঠাৎ এই বাস ধর্মঘটের ফলে দোমহানি মোড়, বারাবনি বাজার সহ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিত্যযাত্রী, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং অফিসযাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েন। সঠিক সময়ে পরিবহন না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সাধারণ মানুষকে।
পরিস্থিতি অবনতি হতে দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বারাবনি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ আধিকারিকরা দোমহানি মোড়ে আন্দোলনরত মিনিবাস চালকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার অনুরোধ জানালেও, চালকরা তাঁদের দাবিতে অনড় থাকেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দুই পক্ষের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের এই দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে টোটো এবং মিনিবাস চালকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মিনিবাস চালকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং সেখানে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাঁরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন না। বৈঠকের আলোচনা ও তার ইতিবাচক ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই আগামী দিনে বারাবনি রুটে মিনিবাস চলাচল করবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বর্তমানে এই পরিবহন অচলাবস্থার জেরে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা। এখন সকলেরই নজর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং আসন্ন সমন্বয় বৈঠকের দিকে, যেখানে টোটো ও মিনিবাসের এই দীর্ঘমেয়াদী দ্বন্দ্বের কোনো স্থায়ী সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসে কি না, সেটাই দেখার।

