শিল্পশহর দুর্গাপুরে সেচ দফতরের কার্যালয়ে এক দায়িত্বশীল রাজস্ব আধিকারিকের অস্বাভাবিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে সমগ্র এলাকায়। শুক্রবার দুর্গাপুর ডিভিশনের সেচ দফতরের নিজের সরকারি ঘরের ভিতর থেকেই ওই আধিকারিকের ঝুলন্ত নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত আধিকারিকের নাম অলোক দাস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দুর্গাপুরে সেচ দফতরের রাজস্ব আধিকারিক (Revenue Officer) পদে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
স্থানীয় ও দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই শুক্রবার সকালেও সময়মতো অফিসে এসেছিলেন অলোকবাবু। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাঁর ঘরের দরজা দীর্ঘক্ষণ ভেতর থেকে বন্ধ থাকতে দেখেন সহকর্মীরা। প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে এবং ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য বাইরে থেকে বারবার দরজায় কড়া নাড়া হলেও ভিতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ মেলেনি। এমনকী তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা উত্তরহীনই থেকে যায়। এতেই দফতরে কর্মরত কর্মী ও আধিকারিকদের মনে তীব্র সন্দেহের দানা বাঁধে। কোনো অঘটন ঘটেছে আশঙ্কা করে দেরি না করে তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় স্থানীয় কোকওভেন থানায়।
সংবাদ পেয়েই কোকওভেন থানার পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে উপস্থিত সহকর্মীদের সামনেই অফিসের বন্ধ দরজার লক ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশ। ঘরের ভিতরে ঢুকতেই সিলিং ফ্যানের সাথে অলোক দাসকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান সবাই। তড়িঘড়ি তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নিকটস্থ দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, মৃত অলোক দাসের মূল বাড়ি নদিয়া জেলার কল্যাণী এলাকায়। তবে কর্মসূত্রে দুর্গাপুরে বদলি হয়ে আসার পর থেকে তিনি এখানে একাই আবাসন নিয়ে থাকতেন। দফতরে অত্যন্ত শান্ত, মৃদুভাষী ও কর্তব্যপরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবেই তাঁর সুনাম ছিল। ফলে তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ আধিকারিকের এমন আকস্মিক ও করুণ পরিণতিতে স্তব্ধ ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সহকর্মীরা।
তবে এটি নিছকই কাজের চাপ জনিত তীব্র মানসিক অবসাদ থেকে আত্মহত্যা, নাকি এই রহস্যমৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও পারিবারিক বা ব্যক্তিগত জটিলতা রয়েছে—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে কোকওভেন থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরা মৃতের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস (CDR) খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তাঁর সহকর্মী এবং কল্যাণীতে থাকা পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্গাপুর
কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ নাকি অন্য জটিলতা? দুর্গাপুরে সরকারি আধিকারিকের মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন

ট্যাগসমূহ:File photo
