সারথি প্রকল্পেই আসানসোলের শিল্প ভবিষ্যত: বন্ধ সাইকেল কারখানাতেই শিল্প পুনরুজ্জীবনের দাবি পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর
নিজস্ব সংবাদদাতা, : আসানসোলের ঐতিহ্যবাহী বন্ধ সাইকেল কারখানাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর এবার 'সারথি' সাইকেল প্রকল্পকে সামনে রেখে এই শিল্প পুনরুজ্জীবনের জল্পনা আরও জোরালো করলেন রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। রাজ্যে 'সারথি' প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে সাইকেল বিলি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আসানসোলের ভবিষ্যৎ শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে মন্ত্রীর বক্তব্যে।
শনিবার আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বল্লভপুর রামগোপাল সরাফ বিদ্যাপীঠ স্কুলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়। 'সারথি' প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী নিজে সাইকেল চালিয়ে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে এক অত্যন্ত আন্তরিক ও সাধারণ মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর নজির গড়েন। তাঁর এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দারুণ উৎসাহের সৃষ্টি করে। পাশাপাশি, সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়েও বিশেষ জোর দেওয়া হয় এই অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী আসানসোলকে পুনরায় সাইকেল তৈরির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জোরালো দাবি জানান। ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে জানা যায়, ১৯৫২ সালে পথ চলা শুরু করা আসানসোলের বিখ্যাত সেনরেল সাইকেল কারখানায় তৈরি ‘বলাকা’ বা ‘হ্যামার’ ব্র্যান্ডের সাইকেল কেবল পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও সমাদৃত ছিল। হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের উৎস এই কারখানাটি একসময়ের রমরমা অবস্থা হারিয়ে ২০০১ সালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে মারাত্মক ধাক্কা খায় স্থানীয় অর্থনীতি ও বহু পরিবার। তবে বন্ধ হয়ে গেলেও সেখানকার পুরোনো পরিকাঠামো এবং বিশাল জমির ওপর থাকা ঐতিহ্য এখনও এই অঞ্চলের অন্যতম অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
কয়েকদিন আগেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এবার থেকে রাজ্যের 'সারথি' প্রকল্পের বাইসাইকেল বাইরে থেকে আমদানি না করে ভারতেই তথা রাজ্যেই তৈরি করা হবে। সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা মনে করিয়ে দিয়ে পুরমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, বন্ধ কারখানার আইনি জট ও দীর্ঘদিনের জমির সমস্যা কাটিয়ে সেখানে নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য জোর প্রশাসনিক উদ্যোগ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সাইকেল কেবল ছাত্রছাত্রীদের স্কুল যাতায়াতের মাধ্যমই নয়, বরং এটি গ্রামীণ অর্থনীতি ও তরুণ প্রজন্মের স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার এক নতুন পথ। রাজনৈতিক মহলের মতে, মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর আসানসোলের সেনরেলের বন্ধ জমিতে যদি সত্যিই ফের সাইকেলের চাকা ঘোরানো সম্ভব হয়, তবে তা এই পুরো শিল্পাঞ্চলের ম্রিয়মাণ অর্থনৈতিক চিত্রকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে এবং হাজার হাজার বেহাল কর্মপ্রার্থীর মুখে হাসি ফোটাতে পারে।
ব্রেকিং নিউজ
সেনরেলের বন্ধ জমিতে কি ঘুরবে সাইকেলের চাকা? আসানসোলে নতুন শিল্প সম্ভাবনার জোয়ার

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
