নির্ভীক বাংলা বিশেষ প্রতিবেদন:
পশ্চিম বর্ধমান জেলাজুড়ে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত 'জামতারা গ্যাং'-এর আদলে হোটেল এবং আবাসিক এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় করে চলা একাধিক প্রতারণা চক্রের হদিশ মিলল দুর্গাপুর ও কুলটি এলাকায়। গত ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে দুর্গাপুর ও কুলটি থেকে একাধিক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ সাইবার অপরাধের সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে দুর্গাপুরের স্টেশন বাজার সংলগ্ন সাধুডাঙা এলাকায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয় একটি হোটেলে হানা দেয় এবং চার যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতরা ঝাড়খণ্ডের দেওঘর জেলার মধুপুর এলাকার বাসিন্দা। ধৃতদের নাম গণেশ সদ্দার, সচিন দাস, জিতেন্দ্র কুমার দাস এবং সুরেন্দ্র দাস। হোটেলের একটি ঘরকে কার্যত প্রতারণার 'অফিস' বানিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষকে ফোন বা ডিজিটাল মাধ্যমে টার্গেট করত তারা। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, একাধিক মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের নজর এড়াতে তারা নিয়মিত হোটেল পরিবর্তন করত বলে জানা গেছে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) রাসপ্রিত সিং জানিয়েছেন, ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের মূল শিকড় সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
এর পাশাপাশি, কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ি এলাকার হরিজন পাড়াতেও সাইবার অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালায় পুলিশ ও সাইবার সেলের যৌথ দল। সোমবারের এই অভিযানে ১২ জনকে আটক করা হলেও পরে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার ধৃতদের আসানসোল জেলা আদালতে পেশ করা হয়। তল্লাশিতে নগদ ৩ লক্ষ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার এবং প্রচুর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের গভীরে কারা রয়েছে, তা জানতে পুলিশ ধৃতদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
অন্যদিকে, দুর্গাপুরের কাদারোড এবং অমরাবতী ভ্যাম্বে কলোনি এলাকায় নিউ টাউনশিপ থানা ও বুদবুদ থানার পুলিশ যৌথভাবে বড়সড় অভিযান চালিয়েছে। কাদারোডে পুলিশি অভিযানে পেনড্রাইভ, এটিএম কার্ড, পাসবুক এবং হার্ডডিস্কসহ একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করে ছয়জনকে আটক করা হয়। অন্যদিকে অমরাবতী ভ্যাম্বে কলোনি থেকেও সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে গ্রেফতার এবং ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
সাইবার অপরাধের এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা রোধে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এই সাঁড়াশি অভিযান অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এই চক্রের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য কোনো বড় সিন্ডিকেট জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পশ্চিম বর্ধমান
पश्चिम बर्द्धमान पुलिस की कार्रवाई: दुर्गापुर और कुल्टी में जामताड़ा शैली के साइबर फ्रॉड रैकेट का भंडाफोड़

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
