আসানসোল
৭ দিন ধরে গাড়ি বন্ধ, সংসার চালাব কী করে? ক্ষোভে ফুঁসছেন সতইশার টোটো চালকরা

Nirbhik Bangla Photo
আসানসোল, নির্ভীক বাংলা :জিটি রোডে টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর থেকেই চরম সমস্যায় পড়েছেন এলাকার টোটো চালকরা। টানা ছয়-সাত দিন ধরে গাড়ি বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন রোজগার পুরোপুরি বন্ধ, অন্যদিকে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ চালকদের। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের দাবিতে এদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন সতইশা এলাকার একাধিক টোটো চালক।
চালকদের দাবি, তাঁরা কোনও নিয়ম ভাঙার জন্য আন্দোলনে নামতে চান না। বরং প্রশাসনের কাছে তাঁদের আবেদন, সমস্যাটি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের ব্যবস্থা করা হোক। তাঁদের বক্তব্য, জিটি রোডে টোটো চলাচল বন্ধ করা হলে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সরাসরি তাঁদের পরিবারের উপর তার প্রভাব পড়ছে।
এদিন এক টোটো চালক বলেন, “আমরা চাইছি না যে কোনও নির্দিষ্ট এলাকার জন্য আলাদা নিয়ম করা হোক। আমরা যদি এই এলাকায় থাকি, তাহলে আমাদের কী দোষ? বলা হচ্ছে জিটি রোডে টোটো চালানো যাবে না। কিন্তু আমাদের যাতায়াতের পথই তো জিটি রোডের সঙ্গে যুক্ত। নিয়ম হলে সেটা সব জায়গার জন্য সমান হওয়া উচিত। গোটা বাংলার জন্য একই নিয়ম হওয়া উচিত। আমরা এই এলাকায় থাকি বলে এটাই কি আমাদের অপরাধ?”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এখনও পর্যন্ত কোনও ধর্না করিনি। আমরা শুধু চাইছি শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের সমস্যার সমাধান হোক। আগে যেভাবে টোটো চালাতাম, সেভাবেই চালানোর সুযোগ দেওয়া হোক, যাতে পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারি। আমরা রাস্তায় নামতে চাই না। আজ রাস্তায় যারা দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁরা সকলেই গরিব মানুষ।”
চালকদের অভিযোগ, টানা সাত দিন ধরে গাড়ি বন্ধ থাকায় তাঁদের হাতে কোনও রোজগার নেই। এক চালকের কথায়, “আমরা ছয় দিন ধরে বসে আছি। সবাই বেকার হয়ে গিয়েছি। কারও কাছে ওষুধ কেনার টাকাও নেই। আজ সাত দিন হয়ে গেল গাড়ি বন্ধ। কোনও রোজগার নেই। বাচ্চাদের ভাড়া দিয়ে স্কুলে পাঠাতাম। নিজের গাড়ি থাকা সত্ত্বেও এখন বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। টিউশন, স্কুলের খরচ—সবই আছে। আমরা রোজগার না করলে সংসার চলবে কী করে?”
চালকদের বক্তব্য, তাঁদের অধিকাংশের সংসার টোটো চালানোর আয়ের উপরই নির্ভরশীল। হঠাৎ করে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে তাঁদের জন্য কার্যকর কোনও সমাধান বের করার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
টোটো চালকদের দাবি, প্রশাসন তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক এবং এমন একটি ব্যবস্থা করুক যাতে যানজট ও নিরাপত্তার বিষয়টিও বজায় থাকে, আবার তাঁদের জীবিকাও পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়। তাঁদের কথায়, “আমরা সংঘাত চাই না, চাই সমাধান।”
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
