আসানসোল, ২৯ সেপ্টেম্বর: বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের প্রতীকের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে তীব্র শোরগোল ছড়িয়ে পড়ল আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ফতেপুর এলাকায়। জিটি রোড সংলগ্ন ফতেপুরের পুরোনো ও পরিচিত ‘কমল হোটেল’-এর বোর্ডে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র অফিসিয়াল ‘পদ্ম’ প্রতীক ব্যবহার করায় মঙ্গলবার দিনভর ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে হোটেল প্রাঙ্গণে পৌঁছে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, ব্যবসায়িক ফায়দা লুটতে বা অন্য কোনও উদ্দেশ্যে কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীক বা নাম ব্যবহার করা নীতিগর্হিত এবং বেআইনি। একই সঙ্গে বিতর্কিত এই প্রতীক অবিলম্বে নামিয়ে ফেলার দাবিতে সুর চড়ান প্রতিবাদীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফতেপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কমল হোটেলটি পরিচালিত হচ্ছে। তবে সম্প্রতি হোটেল কর্তৃপক্ষের তরফে মূল সাইনবোর্ড ও চত্বরের একাধিক জায়গায় বিজেপির দলীয় প্রতীক 'পদ্ম' আঁকা ও ছাপানো হয়। বিষয়টি পথচলতি মানুষ ও স্থানীয় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নজরে আসতেই আপত্তির ঝড় ওঠে। প্রশ্ন ওঠে, একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কেন এবং কার অনুমতিতে একটি জাতীয় দলের প্রতীক ব্যবহার করছে? মঙ্গলবার সকালেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে জিটি রোড সংলগ্ন ওই হোটেল চত্বরে।
মঙ্গলবার স্থানীয় বিজেপি নেতা বিরজু যাদবের নেতৃত্বে একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক ফতেপুরের ওই হোটেলে চড়াও হন এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। প্রতীক ব্যবহারের আইনি ও নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভকারীরা হোটেল কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি হন। শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ ও দীর্ঘ আলোচনা। বিক্ষোভকারীরা সাফ জানান, দলের প্রতীককে কোনও বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতিতেই সাইনবোর্ডে থাকা পদ্ম প্রতীকটি কাপড় ও কাগজ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
ঘটনার জেরে ব্যাকফুটে আসা কমল হোটেলের মালিক কমল মাজি জানান, বিতর্ক এড়াতে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে হোটেল চত্বরে লাগানো সমস্ত রাজনৈতিক প্রতীক বুধবারের মধ্যেই সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলা হবে। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে এবং কাদের মদতে ওই হোটেলে বিজেপির প্রতীক লাগানো হয়েছিল, সে বিষয়ে হোটেল মালিকের তরফে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কমল নামের সঙ্গে পদ্মের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা, নাকি কোনো রাজনৈতিক সুরক্ষাকবচ পাওয়ার উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছিল—তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু স্থানীয় স্তরেই নয়, বিজেপির দলীয় অন্দরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলের অনুমতি ছাড়া নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের আইনি দিক নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে আসানসোল সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত চক্রবর্তী কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, "দলীয় প্রতীক ব্যবহারের কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলা রয়েছে। দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহার করতে পারেন না। ফতেপুরের ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
জেলা সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত চক্রবর্তী আরও যোগ করেন, "কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ‘কমল’ বা পদ্মের সমার্থক হতে পারে, কিন্তু সেখানে বিজেপির রেজিস্টার্ড নির্বাচনী প্রতীক সরাসরি ব্যবহার করা একেবারেই ভিন্ন বিষয়। দলের তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যদি দেখা যায় দলের কোনো স্তরের অনুমতি ছাড়াই এই কাজ করা হয়েছে, তবে আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"
পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিল্পাঞ্চল আসানসোলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতীকের অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তেমনই অন্য রাজনৈতিক দলগুলিও গোটা বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করছে। রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসানসোলের এই ঘটনায় দলের ভেতরে কোনো কোন্দল নাকি ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়ার কৌশল লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। আপাতত হোটেল মালিক প্রতীক সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, দলীয় অনুমতির প্রশ্নটি আসানসোলের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ব্রেকিং নিউজ
আসানসোলে বেসরকারি হোটেলের সাইনবোর্ডে বিজেপির প্রতীক ব্যবহার, বিক্ষোভে উত্তপ্ত এলাকা

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
