Nirbhik Bangla
ব্রেকিং নিউজ

আসানসোলে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, সালানপুর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ স্থানীয়দের

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
৫ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০২:২৯ PM
WhatsApp
আসানসোলে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, সালানপুর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ স্থানীয়দের
Nirbhik Bangla Photo
শ্যাম দাস, আসানসোল: সালানপুর থানার অন্তর্গত ধাগুড়ি গ্রামের বাসিন্দা সন্তোষ লায়েকের মর্মান্তিক পথ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল আসানসোলের সালানপুর থানা এলাকায়। ঘাতক গাড়ির চালক ও মালিকের কঠোর শাস্তি এবং পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে সালানপুর থানার গেটের সামনে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিবারবর্গ ও ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাত প্রায় আটটা নাগাদ প্রাত্যহিক কাজের উদ্দেশ্যে নিজের মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সন্তোষ লায়েক। সালানপুরের মিলাকলা মোড়ের কাছে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি দ্রুতগামী কালো রঙের ভার্না গাড়ি তাঁর বাইকটিতে সজোরে ধাক্কা মারে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ফলে ঘটনাস্থলেই সন্তোষবাবুর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে তড়িঘড়ি একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই আকস্মিক মৃত্যুর পরেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে తీవ్ర ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা। তাঁদের অভিযোগ, সালানপুর থানার তরফে ফোন পেয়ে পরিবারের লোকজন যখন হাসপাতালে পৌঁছান, তখন সন্তোষবাবুর নিথর দেহ পড়ে থাকলেও সেখানে পুলিশের কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী বা প্রশাসনিক আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন না। পুলিশের এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

মৃতের পরিবারের আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় ঘাতক গাড়িটিতে দুজন মহিলা ছিলেন এবং তাঁরা মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই গাড়িটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে কর্তব্যরত পুলিশ গাড়িটিসহ ওই দুই মহিলাকে আটক করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রহস্যজনক কারণে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। এই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের প্রতিবাদেই তারা থানায় চড়াও হন।

বিক্ষোভকারী সাধারণ মানুষ ও পরিবারের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে ওই গাড়ির মালিককে থানায় হাজির হয়ে সন্তোষবাবুর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং একটি সম্মানজনক আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। যতক্ষণ না এই ঘটনার একটি সন্তোষজনক মীমাংসা হচ্ছে, ততক্ষণ থানা চত্বর থেকেই মৃতদেহ সরাতে দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

এই আন্দোলনের জেরে পুরো সালানপুর থানা চত্বরে থমথমে পরিবেশ ও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পরিবারের সমস্ত অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করার জন্য পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য