১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে সম্প্রসারণ ও মেরামতির কাজ করার সময় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই ঠিকা শ্রমিকের অকালমৃত্যু এবং চারজনের মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার চরম উত্তেজনা ছড়ালো দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে। নিহত শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের একজনের চাকরির দাবিতে ঠিকাদারি সংস্থার এক ম্যানেজারকে ঘিরে ধরে হাসপাতালের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখান নিহতের পরিবার-পরিজন, সহকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও থমথমে আবহ বিরাজ করছে গোটা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার কাঁকসার রাজবাঁধ এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে ব্যস্ত ছিলেন একদল ঠিকা শ্রমিক। সেই সময় কলকাতা অভিমুখী একটি বেপরোয়া ও দ্রুতগতির কনটেনার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি ওই শ্রমিকদের সজোড়ে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন দুই শ্রমিক এবং দুর্ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি গুরুতর জখম হন আরও চারজন ঠিকা শ্রমিক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় সড়কে কাজ চলাকালীন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা ট্রাফিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার সকালে হাসপাতালের মর্গে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলাকালীন সংঘাতের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর থেকেই ঠিকাদারি সংস্থার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। রবিবার সকালে সংস্থাটির এক ম্যানেজার হাসপাতালে পৌঁছালে মৃতের পরিবারকে মাত্র এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন। এই সামান্য টাকার প্রস্তাবে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নিহতের স্বজনেরা। ক্ষুব্ধ পরিজন ও সহকর্মীরা তৎক্ষণাৎ ওই ম্যানেজারকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের পরিবারের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে অন্তত ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং পরিবার পিছু এক সদস্যের স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া চিকিৎসাধীন চার শ্রমিকের সমস্ত চিকিৎসার খরচ সংস্থাকেই বহন করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মর্গ থেকে লাশ নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দুর্গাপুর থানার পুলিশ বাহিনী এবং কাঁকসা থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছায়। তারা ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে সমঝোতার মাধ্যমে অশান্তি মেটানোর চেষ্টা চালায়। তবে আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকায় দীর্ঘক্ষণ ধরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলতে থাকে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ঠিকাদারি সংস্থার ম্যানেজারের বক্তব্য, সংস্থা নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেবে, তবে চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই নির্ধারণ করবে। আপাতত পুলিশ ঘাতক কনটেনারটিকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং চালকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। পরিবারের অনড় মনোভাবের কারণে ঘটনার পর থেকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃতদেহ দুটি হাসপাতালের মর্গেই রাখা রয়েছে।
দুর্গাপুর
১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ২ শ্রমিকের মৃত্যু, ২৫ লক্ষ ক্ষতিপূরণ ও চাকরির দাবিতে দুর্গাপুরে উত্তাল বিক্ষোভ

