সালানপুর: রাতভর মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা, জহরগড় সেতু পার হওয়ার সময় জলের তোড়ে ভেসে গেলেন এক যুবক। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালানপুর থানার অন্তর্গত এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের এথোড়া মোড় থেকে সীতারামপুর যাওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা রয়েছে। এই রাস্তার মাঝেই পড়ে জহরগড় সেতু। একটানা ভারী বৃষ্টির ফলে সেতুর উপর দিয়ে অতিরিক্ত জল বইতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে সেতুর দুই দিকের গার্ডওয়াল বা পাঁচিল জলের চাপে ভেঙে যায়। ফলে রাস্তা এবং খাদের সঠিক সীমানা বুঝতে না পেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন দুই যুবক।
প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, রাতের অন্ধকারে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই সীতারামপুরগামী একটি স্কুটিতে চড়ে ওই দুই যুবক গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু জলমগ্ন সেতু পার হওয়ার সময় তাঁরা বুঝতে পারেননি যে পাঁচিল ভাঙা রয়েছে। এর জেরে তাঁদের স্কুটিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি সেতুর নিচে খাদে পড়ে যায়। জলের তীব্র স্রোত এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে দুজনেই জলের তোড়ে ভেসে যান।
তবে অলৌকিকভাবে স্কুটিতে থাকা এক যুবক শেষ মুহূর্তে পাশের একটি গাছের ডাল আঁকড়ে ধরে প্রাণে বেঁচে যান। এদিকে ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত তৎপরতা শুরু করে পুলিশ প্রশাসন। নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ দল তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যুবককে নিরাপদে উদ্ধার করে। পাশাপাশি সালানপুর থানা, নিয়ামতপুর ফাঁড়ি এবং কুলটি ট্রাফিক গার্ডের যৌথ উদ্যোগে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জলে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ যুবকের নাম আমির গেয়াস (বয়স ১৮ বছর)। তিনি সীতারামপুর এলাকারই স্থায়ী বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। একটানা বৃষ্টির কারণে নিকাশি ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভও দানা বাঁধছে। নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যুবকের সন্ধান মেলেনি।
পশ্চিম বর্ধমান
নাজিরগঞ্জ সেতুর মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: জলের তোড়ে ভেসে গেলেন ১৮ বছরের যুবক আমির গেয়াস

