ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বিখ্যাত কয়লা চোরাচালান মামলার প্রধান অভিযুক্ত অনুপম মাঝি ওরফে লালাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ইডিআই) তার নিরাপত্তার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর প্রথমবারের মতো লালাকে নিজের হেফাজতে নিয়ে সম্পূর্ণ তদন্ত করতে পারবে ইডি। সুপ্রিম কোর্টের রায় 2026 সালের ফেব্রুয়ারিতে আসা এই সিদ্ধান্তে, সুপ্রিম কোর্ট লালাকে দেওয়া আইনি ত্রাণ সরিয়ে দেয় এবং ইডিকে তাকে তার হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেয়। আগে গ্রেফতার বা আটকে অনেক আইনি বাধা থাকলেও এখন তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ খুলে গেছে সংগঠনটির।
কেলেঙ্কারির পটভূমি...
তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই মামলাটি ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল) খনি এলাকায় বড় আকারের অবৈধ কয়লা উত্তোলন, চুরি ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, লালার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করছে, যার সঙ্গে অনেক কর্মকর্তার যোগসাজশ প্রকাশ্যে এসেছে। তদন্তে 2700 কোটি টাকারও বেশি অবৈধ আয়ের অনুমান করা হয়েছে। এই নেটওয়ার্কে "লা প্যাড" নামক জাল পরিবহন চালান ব্যবহার করা হত, যেখানে ছোট নোট কোডিং করে লেনদেন করা হত বলে অভিযোগ। সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং গ্রেপ্তার ইডি সম্প্রতি অস্থায়ীভাবে লালা এবং তার সহযোগীদের প্রায় 100.44 কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে, যার মধ্যে বেনামী কোম্পানি, জমি এবং মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে। এখন পর্যন্ত, এই মামলায় মোট 322 কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন, লালার ঘনিষ্ঠ সহযোগী চিন্ময় মণ্ডল এবং কিরণ খানকেও গ্রেপ্তার করেছে ইডি। এই অবৈধ কয়লা চোরাচালান অভিযানে জয়দেব মন্ডল, গুরপদ, নিরোধ এবং বিন্যাহ মিশ্রের মতো অনেক লোক জড়িত ছিল, যাদের রাজ্য ও জেলা স্তরের অনেক প্রভাবশালী নেতার সাথে যোগাযোগ ছিল। সংস্থাটির অভিযোগ, কয়লা চোরাচালান থেকে অর্জিত অর্থ রিয়েল এস্টেট ও অন্যান্য ব্যবসায় ব্যয় করছেন এসব ব্যক্তিরা।
লালার যাত্রা...
পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর এলাকায় এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অনুপ আলিয়াস লালার। আগে তিনি মাছের ব্যবসা করতেন, পরে সালানপুর এলাকায় এসে কয়লা চোরাচালানের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন এবং ধীরে ধীরে এই নেটওয়ার্কের প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর কি...
এখন, সুপ্রিম কোর্টের অনুমতির পরে, ইডি লালাকে হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে এবং মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্ক, হাওয়ালা লেনদেন এবং কথিত রাজনৈতিক সংযোগের লিঙ্কগুলি তদন্ত করতে পারে। নির্বাচনী পরিবেশে এ ইস্যু আরও রাজনৈতিক মোড় নেবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কয়লা মাফিয়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ইডি তদন্তে এই পদক্ষেপকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

