Nirbhik Bangla
ব্রেকিং নিউজ

অবৈধ বালি পাচার রোধে কড়া পদক্ষেপ, আসানসোল-দুর্গাপুর সীমান্তে বাধ্যতামূলক জিপিএস ছবি

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
৩১ আগস্ট, ২০২৬ এ ০২:১৮ PM
WhatsApp
অবৈধ বালি পাচার রোধে কড়া পদক্ষেপ, আসানসোল-দুর্গাপুর সীমান্তে বাধ্যতামূলক জিপিএস ছবি
Nirbhik Bangla Photo
নির্ভীক বাংলা সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিহার এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বালি বোঝাই ট্রাক ও ডাম্পারের অবাধ প্রবেশ রুখতে এবং অবৈধ বালির কারবারে লাগাম টানতে এবার নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু করল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে রাজ্য পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বালি ব্যবসায়ী মহলে। সাধারণ চেকিংয়ের পাশাপাশি এখন থেকে চালানের সত্যতা যাচাই করতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে লোডিং পয়েন্টের জিপিএস (GPS) ভিত্তিক ছবি। চালকদের কাছে বৈধ চালান থাকার পরেও যদি বালি উত্তোলনের নির্দিষ্ট ঘাটের জিপিএস ছবি বা লোকেশন প্রামাণ্য নথী হিসেবে না থাকে, তবে সীমান্তেই আটকে দেওয়া হচ্ছে গাড়ি। এর জেরে ডিবুডিহ থেকে শুরু করে রূপনারায়ণপুর ও মিহিজাম সীমান্ত পর্যন্ত বালি বোঝাই শত শত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে।

প্রশাসনের একটি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, গত কিছুদিন ধরেই বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন অবৈধ বা আংশিক বৈধ খাদান থেকে বালি তুলে তা পশ্চিমবঙ্গের বাজারে পাচারের একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি নির্দিষ্ট জায়গার বা ভুয়া চালানের আড়ালে অন্য জায়গা থেকে অবৈধভাবে বালি তুলে তা বাংলায় নিয়ে আসা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই চালানের জেরক্স কপি বা একাধিক ট্রিপ দেখিয়ে বালি পাচারের অভিযোগও জমা হচ্ছিল পুলিশের কাছে। এই সমস্ত বেআইনি কারবার ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতেই আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে এই মেগা ক্র্যাকডাউন শুরু করা হয়েছে।

সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার আসানসোলের ডিবুডিহ চেকপোস্টে এখন চব্বিশ ঘণ্টার কড়া নজরদারি চলছে। ঝাড়খণ্ডের দিক থেকে আসা ভারী যানবাহনগুলির চালকদের শুধু সরকারি চালান বা ট্যাক্স রসিদ দেখালেই আর নিস্তার মিলছে না। পুলিশ আধিকারিকরা সরাসরি জানতে চাইছেন, ঠিক কোন ঘাট থেকে বালি তোলা হয়েছে এবং তার স্বপক্ষে জিপিএস লোকেশনযুক্ত ছবি কোথায়? চালকরা সেই ডিজিটাল প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হলেই তাদের বাংলায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। একইভাবে, রূপনারায়ণপুর এবং ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলার মিহিজাম থানা সংলগ্ন সীমান্ত এলাকাগুলিতেও একই ছবি ধরা পড়েছে। এই আকস্মিক কড়াকড়িতে দুই রাজ্যের সীমান্তেই বালি পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত চালক ও খালাসিরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

এদিকে রাজ্য পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের পর প্রশাসনিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই ঝাড়খণ্ড পুলিশও একই ধরনের মডেল অনুসরণ করতে পারে। বিশেষ করে জামতাড়া জেলা প্রশাসন যদি বালি পরিবহনের ক্ষেত্রে জিপিএস ছবি বাধ্যতামূলক করে, তবে আন্তঃরাজ্য বালি বাণিজ্যের সম্পূর্ণ চিত্রটাই বদলে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে বৈধ ব্যবসায়ীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তবুও পরিবেশ ধ্বংসকারী ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া অবৈধ বালি মাফিয়াদের রুখতে পুলিশের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। নদীমাতৃক এই অঞ্চলে বেআইনি বালি খনন ও পরিবহনের রমরমা রুখতে পুলিশের এই জিপিএস নজরদারি কতটা দীর্ঘস্থায়ী ও ফলপ্রসূ হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য