Nirbhik Bangla
ব্রেকিং নিউজ

বর্ধমানে ড্রাগ কন্ট্রোলের কড়া হানা: বিসি রোডের ওষুধের দোকানগুলিতে নথিপত্র তল্লাশি

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
১ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০২:৪৩ PM
WhatsApp
বর্ধমানে ড্রাগ কন্ট্রোলের কড়া হানা: বিসি রোডের ওষুধের দোকানগুলিতে নথিপত্র তল্লাশি
Nirbhik Bangla Photo
বর্ধমানের বিসি রোডের ওষুধের দোকানে ড্রাগ কন্ট্রোলের হানা: নথিপত্র তল্লাশি, কড়া আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

প্রেসক্রিপশন ছাড়া বেআইনিভাবে মাদকজাতীয় ওষুধ কিংবা ঘুমের ওষুধ বিক্রি রুখতে এবার অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলা সদর বর্ধমান শহরের অন্যতম ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা বিসি রোডের একাধিক বিখ্যাত ওষুধের দোকানে আকস্মিক বিশেষ অভিযান চালাল রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তর। সাম্প্রতিক সময়ে যুবসমাজের একটি অংশের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু সংবেদনশীল ওষুধ নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিপজ্জনক প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সমাজতত্ত্ববিদ ও চিকিৎসক মহল। মূলত ওষুধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং লাইসেন্সের সমস্ত শর্ত মেনে সঠিকভাবে নিয়মকানুন পালন করে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালীন ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তরের ইন্সপেক্টর আব্দুল ওয়াদুদ সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (NDPS) আইনের আওতাভুক্ত ওষুধগুলি চিকিৎসকের বৈধ ও স্পষ্ট প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি একটি কঠোর দণ্ডনীয় অপরাধ। এদিন বিশেষ করে নাইট্রাজেপাম, ট্যাপেন্টাডল ও কোডিন ফসফেটের মতো ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিকস আইনের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও নিয়ন্ত্রিত ওষুধগুলি কীভাবে বিক্রি হচ্ছে, তার সমস্ত স্টক রেজিস্টার, সেলস রেজিস্টার ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়। এই ধরনের ওষুধের অপব্যবহার রোধ করতে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর নির্দেশিকা জারি করে আসছে, যা অনেক সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লঙ্ঘন করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

যদিও এদিনের এই আকস্মিক অভিযানে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট দোকান থেকে কোনো ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য কোনো নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি, তবে তদন্তকারী আধিকারিকরা বেশ কিছু নির্দিষ্ট স্পর্শকাতর ওষুধের ক্রয় ও বিক্রয় সংক্রান্ত চালান অর্থাৎ পারচেজ ও সেল বিল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি, দোকান মালিকদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে দ্রুত এই সমস্ত নথিপত্রের কপি ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তরে জমা দিতে হবে। দপ্তরের আধিকারিক অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যদি কোনো ব্যবসায়ী বৈধ বিল বা সদুত্তর পেশ করতে ব্যর্থ হন, তবে সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানের বিরুদ্ধে ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিকস আইন অনুযায়ী কঠোর থেকে কঠোরতর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা লাইসেন্স বাতিল এবং আইনি জেলের মতো বড় শাস্তির কারণও হতে পারে।

ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তরের তরফে পরবর্তীতে এও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত হঠাৎ কোনো হানা ছিল না; বরং রাজ্যে ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি ও উঠতি যুবসমাজকে এই সর্বনাশা নেশার গ্রাস থেকে রক্ষা করতে একটি সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবেই এই পরিদর্শন চালানো হয়েছে। ওষুধ ব্যবসায়ীরা যাতে আইন মেনে নৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বজায় রাখেন, সেই বার্তা দিতেই এই অভিযান। প্রশাসনের এই কঠোর বার্তার পর বর্ধমান শহরের ওষুধ মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য ও সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে। আগামী দিনে বর্ধমান শহরের অন্যান্য অঞ্চলেও এই ধরনের নজরদারি ও অভিযান পর্যায়ক্রমে আরও জোরালোভাবে জারি থাকবে বলে ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য