আসানসোল
পরিচ্ছন্ন ও উন্নত আসানসোল গড়তে কড়া বার্তা: পুর আধিকারিকদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার নির্দেশ

Nirbhik Bangla Photo
শ্যাম দাস, আসানসোল: আসানসোল শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন, আধুনিক এবং উন্নত নাগরিক পরিষেবা সম্পন্ন করে তোলার লক্ষ্যে আসানসোল পৌরনিগমে শুক্রবার এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। শিল্পাঞ্চল আসানসোলের সার্বিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের সুযোগ-সুবিধার মান আরও উন্নত করার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পৌরনিগমের দৈনন্দিন কার্যপদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এদিনের এই বৈঠকে পৌরনিগমের কাজের গতিপ্রকৃতি খতিয়ে দেখতে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল পৌরনিগমের কমিশনার দিলীপ মিশ্র সহ পৌরনিগমের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা। বিগত কয়েক মাসে পৌরনিগমের বিভিন্ন বিভাগে ঠিক কী ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ রূপায়িত হয়েছে, কাজের ক্ষেত্রে কোথায় বা কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে এবং আগামী দিনে কোন কাজগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা প্রয়োজন, তা নিয়ে মন্ত্রী পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করেন। বৈঠকে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রতিটি দপ্তরকে নিজেদের কাজের হিসাব এবং আগামী দিনের কাজের কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে তৈরি রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, প্রতি মাসে কাজের বিস্তারিত পর্যালোচনা রিপোর্ট জমা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি সোমবার তাঁকে কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে হবে বলে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন। কোন কোন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে, কোনগুলি এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং আগামী দিনে কী কী নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তার সমস্ত তথ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। শহরের রাস্তাঘাট এবং সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর মূল এবং প্রধান লক্ষ্য হলো, আসানসোলের একটি রাস্তা বা অলিগলির অবস্থাও যেন ভাঙাচোরা বা বেহাল না থাকে। একইসঙ্গে শহরের প্রতিটি অলিগলি এবং প্রধান ব্যস্ত রাস্তায় পথবাতি বা স্ট্রিট লাইট সবসময় সচল রাখার নির্দেশ দেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে কোনো বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আলো নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা বা বিকল হয়ে থাকা বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী। শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও এদিনের বৈঠকে দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। প্রতিটি বাড়ি থেকে নিয়মিত এবং নিয়মমাফিক জঞ্জাল সংগ্রহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি, সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন করতে হবে যাতে কেউ যত্রতত্র ময়লা বা জঞ্জাল না ফেলেন। শহরের নিকাশি নালাগুলির নিয়মিত পরিষ্কার করা, ফাঁকা জায়গা থেকে দ্রুত জঞ্জাল অপসারণ এবং একটি সবুজ, দূষণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলার জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। পৌরনিগমের নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধি এবং বকেয়া কর আদায়ের বিষয়টি এদিনের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। কোন কোন ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে এবং কীভাবে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে নিয়মিত রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো সম্ভব, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। পুর এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও এদিন একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শহরের আরবান হেলথ সেন্টারগুলির বর্তমান পরিকাঠামো কেমন, কোথায় চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সেখান থেকে ঠিকমতো চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন কি না, তার এক বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকা শহরের দুটি মাতৃসদন পুনরায় চালু করার জন্য দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন অগ্নিমিত্রা পাল, যাতে গরিব মানুষ সুলভে স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে পারেন। শহরের সৌন্দর্যায়ন এবং ফুটপাতগুলিকে হকারমুক্ত করে সাধারণ পথচারীদের নির্বিঘ্নে হাঁটার উপযোগী করে তোলার বিষয়টিতেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, ফুটপাত সাধারণ মানুষের হাঁটার মৌলিক অধিকার এবং সেই অধিকার কোনোভাবেই খর্ব করা চলবে না। ফুটপাতগুলিকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পথচারীবান্ধব করে তোলার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। এর অঙ্গ হিসেবে কালিপাহাড়ি থেকে মনোজ সিনেমা হল এবং ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের জুবিলি মোড় থেকে বার্নপুরের স্কবগেট পর্যন্ত এলাকাকে পাইলট প্রজেক্ট বা আদর্শ প্রকল্প হিসেবে ধরে উন্নয়নমূলক কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েও বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, আসানসোলকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর এবং আধুনিক নাগরিক পরিষেবায় সমৃদ্ধ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পৌরনিগমের প্রতিটি দপ্তরকে পারস্পরিক সমন্বয় রেখে একযোগে কাজ করতে হবে। তবে কেবল প্রশাসন বা পৌরনিগমের একক উদ্যোগে যে শহরকে সম্পূর্ণ সুন্দর করা সম্ভব নয়, সেকথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন যে, আসানসোলকে ঢেলে সাজাতে সাধারণ নাগরিকদেরও স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি এবং জনগণের সহযোগিতায় আসানসোল অচিরেই রাজ্যের অন্যতম সেরা ও উন্নত শহরে পরিণত হবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। আসানসোলের সাধারণ মানুষও মন্ত্রীর এই কড়া ও সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনে এই প্রচেষ্টার ফলে শিল্পাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের বহু সমস্যার অবসান ঘটবে এবং নাগরিক পরিষেবা এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
