Nirbhik Bangla
রাজ্য

লালগোলায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন: সর্বশান্ত দুর্গতদের পাশে দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘মানবতা’

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
২২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০১:১৮ PM
WhatsApp
লালগোলায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন: সর্বশান্ত দুর্গতদের পাশে দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘মানবতা’
*তারানগরে পদ্মার ভাঙনে বিপন্ন শতবর্ষের জামে মসজিদ ও কবরস্থান, দুর্গতদের পাশে দক্ষিন চব্বিশ পরগনা জেলার এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘মানবতা’*




*বাইজিদ মণ্ডল, লালগোলা:-* পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে ক্রমশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে মুর্শিদাবাদের লালগোলা ব্লকের তারানগর গ্রাম। বছরের পর বছর নদীভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। এবার হুমকির মুখে শতবর্ষের পুরনো তারানগর জামে মসজিদ ও পূর্বপুরুষদের কবরস্থান। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদী আর মাত্র ১০-১২ ফুট এগিয়ে এলেই মসজিদটি পদ্মার গ্রাসে চলে যেতে পারে।




এই সংকটের মুহূর্তে গত বছরের মতো এ বছরও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা ‘মানবতা’। গত ১৬ অক্টোবর সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী পিয়াদার নেতৃত্বে আব্দুস সালাম ও বুরহান উদ্দিন তারানগরের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁরা দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।




তারানগরের ভূমিপুত্র, সাহিত্যিক ও শিক্ষক জহির-উল-ইসলাম প্রতিনিধি দলকে ভাঙনবিধ্বস্ত এলাকা ঘুরিয়ে দেখান। নদীভাঙনে তাঁর নিজের বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মসজিদটির সঙ্গে তাঁর পূর্বপুরুষদের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় তাঁর বাবা-মায়ের কবরও রয়েছে, যা বর্তমানে ভাঙনের আশঙ্কায় বিপন্ন।




ভিটেমাটি হারিয়ে প্রায় ১৫টি পরিবার নদীর পাড়ের একটি বাগানে পলিথিনের অস্থায়ী তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৪০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে রামনগরের বিলবোরা কোপরা মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রে। বহু পরিবার তারানগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঈদগাহ-সহ বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।




পরিদর্শনকালে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে চলাফেরায় সমস্যায় থাকা আসাদুল হকের দুরবস্থার কথা জানতে পারে মানবতার প্রতিনিধি দল। আর্থিক অভাবে তাঁর পুরনো ট্রাইসাইকেলটি মেরামত করা সম্ভব হয়নি। সংস্থার পক্ষ থেকে সেটি মেরামতের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নদীভাঙনে বইপত্র হারানো একাদশ শ্রেণির ছাত্রী পারভিন খাতুনের হাতে জহির-উল-ইসলামের তত্ত্বাবধানে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।




সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী পিয়াদা জানান, দুর্গত পরিবারের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় প্রত্যেকের কাছে সরাসরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। আগামী দিনে জহির-উল-ইসলামের মাধ্যমে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।




তিনি আরও বলেন, তারানগরের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার আশ্রয়ের সংকটে ভুগছেন। তাঁদের স্থায়ী পুনর্বাসনের পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের আবেদন জানান তিনি।




তারানগর আজ শুধু বসতভিটে হারানোর সংকটে নয়, হারানোর মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে তার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্মৃতিও। তাই ত্রাণ ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি শতবর্ষের মসজিদ, কবরস্থান এবং গ্রামকে রক্ষা করতে দ্রুত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদীভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য