শ্যাম দাস, আসানসোল:
রানিগঞ্জে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর রাতের অন্ধকারে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে এক যুবকের মোটরবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। এই দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটেছে রানিগঞ্জের ব্যস্ততম পাঞ্জাবি মোড় সংলগ্ন এলাকায়। জনবহুল জাতীয় সড়কে এমন প্রকাশ্য অস্ত্রবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দুর্গাপুরের স্টিল টাউনশিপের বাসিন্দা তথা ভুক্তভোগী সঞ্জীব নায়েক। ঘটনার পরই তিনি রানিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যার ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট শুক্রবার কর্মসূত্রে পুরুলিয়ায় গিয়েছিলেন সঞ্জীব নায়েক। সেইমতো তিনি দুর্গাপুর থেকে নিজের একটি পালসার মোটরবাইক নিয়ে আসানসোলে আসেন। আসানসোলে এসে নিজের বাইকটি একটি নির্দিষ্ট পার্কিং জোনে নিরাপদে রেখে ট্রেনে করে পুরুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। সারাদিন সেখানে পেশাগত কাজ শেষ করে ওইদিনই রাতে ট্রেনে করে পুনরায় আসানসোলে ফিরে আসেন সঞ্জীব। এরপর পার্কিং জোন থেকে নিজের পালসার বাইকটি বের করে তিনি দুর্গাপুরের নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন।
কিন্তু কে জানত বাড়ির পথেই তাঁর জন্য এমন বিপদ অপেক্ষা করছে? অভিযোগ অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ৯টা নাগাদ তিনি যখন ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাঞ্জাবি মোড় সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছান, ঠিক তখনই একটি চলন্ত মোটরসাইকেলে করে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক হঠাৎ তাঁর পথ আটকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এবং অভিযোগকারীর বয়ান অনুযায়ী, ওই তিন দুষ্কৃতীরই মুখ গামছা বা কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল, যাতে তাদের কেউ চিনতে না পারে। এরপর অত্যন্ত সুকৌশলে তারা সঞ্জীববাবুর বাইকটির গতি রোধ করে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীরা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এবং সোজাসুজি তাঁর মাথায় রিভলভার ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় ও চরম ভয় দেখায়।
প্রাণ বাঁচাতে এবং আকস্মিক এই হামলায় হকচকিত হয়ে যাওয়া সঞ্জীব নায়েক আর প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। সেই সুযোগেই দুষ্কৃতীরা তাঁর মূল্যবান পালসার মোটরবাইকটি জোরপূর্বক কেড়ে নেয় এবং চোখের পলকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। রাতের অন্ধকারে ফাঁকা বা আংশিক ফাঁকা জাতীয় সড়কের সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের টিকিও ছুঁতে পারেননি ভুক্তভোগী যুবক।
ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও কোনো রকমে নিজেকে সামলে সঞ্জীব নায়েক সোজা রানিগঞ্জ থানায় পৌঁছান। সেখানে সমস্ত ঘটনা বিস্তারিত জানিয়ে রানিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। জাতীয় সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও পাহারাদার অধ্যুষিত এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে বা রাতের অন্ধকারে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে এভাবে বাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ভুক্তভোগী সঞ্জীব নায়েক বলেন, 'আমি এখনও সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারছি না। ভাবতেই পারছি না যে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের মতো এতটা ব্যস্ততম রাস্তার উপর এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনা ঘটতে পারে! যেভাবে আমার মাথায় রিভলভার ঠেকানো হয়েছিল, তাতে আমি আতঙ্কিত।'
অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করে তাদের দ্রুত আটকের চেষ্টা চলছে। পুলিশি টহলদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অপরাধ
ব্যস্ত জাতীয় সড়কে অস্ত্রের মুখে ছিনতাইয়ের ঘটনায় কাঠগড়ায় নিরাপত্তা

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
