Nirbhik Bangla
রাজ্য

উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে রণক্ষেত্র সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট, মোতায়েন র‍্যাফ

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ০৩:০৭ PM
WhatsApp
উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে রণক্ষেত্র সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট, মোতায়েন র‍্যাফ
Nirbhik Bangla Photo
কলকাতার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-তে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রবিবার যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে, তা বর্তমানে টালমাটাল অবস্থায় ফেলেছে ক্যাম্পাসটিকে। একটি বেসরকারি সংগঠনের অনুষ্ঠান চলাকালীন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একাধিক পড়ুয়া ও অধ্যাপক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা নিয়ে গোটা শিক্ষা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবারের এই ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ইনস্টিটিউট চত্বরে একটি বেসরকারি সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও পড়ুয়াদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানে এমন কিছু বক্তব্য রাখা হয় যা উস্কানিমূলক এবং ক্যাম্পাসের ভাবমূর্তির পরিপন্থী। এই বিষয়ের প্রতিবাদ জানাতে কিছু সাধারণ পড়ুয়া এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদী পড়ুয়াদের স্পষ্ট অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া গুরুতর জখম হয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের সামনেই দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি চলে বলে অভিযোগ। এমনকি এই ঘটনায় ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষক বা অধ্যাপকও নিগ্রহের শিকার হয়েছেন বলে আন্দোলনরত পড়ুয়ারা দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, পুরো ঘটনার একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে অভিযুক্ত অনুষ্ঠান আয়োজক সংগঠনটি। তাদের এক প্রতিনিধির দাবি, সমস্ত নিয়মকানুন এবং যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে, ভাড়া দিয়েই ইনস্টিটিউট চত্বরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তাঁদের পালটা অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন পড়ুয়ারাই বিনা উসকানিতে তাঁদের ঘিরে ধরে আক্রমণ চালান এবং পরবর্তীতে তাদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন। আয়োজকদের দাবি, তাঁদের ওপর শারীরিক নিগ্রহ চালানো হয়েছে এবং তাদের বাহন ভাঙচুরেরও চেষ্টা করা হয়।

এই ঘটনার জেরে মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে SRFTI চত্বর। পড়ুয়ারা সংঘটিত হয়ে আয়োজক সংগঠনের বাস আটকে দেন এবং ইনস্টিটিউটের মূল গেট অবরুদ্ধ করে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। রবিবারের সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেও ক্যাম্পাসের বাইরের এবং ভিতরের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ।

ঘটনার জেরে দুই পক্ষের তরফেই একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং পালto পাল্টি অভিযোগ সামনে আসছে। ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট কারণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটল এবং এর নেপথ্যে অন্য কোনো উসকানি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় থানার পুলিশ ও প্রশাসন। শিক্ষাঙ্গনে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও পড়ুয়ারা।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য