দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানার বিধাননগর পাম্প হাউস মোড় এলাকায় সরকারি জমিতে দোকান বসানোর অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় বিজেপি নেতা সোমনাথ চক্রবর্তীর একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে গোটা দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিধাননগর পাম্প হাউস মোড় সংলগ্ন একটি জনবহুল সরকারি জমিতে বেআইনিভাবে দোকান নির্মাণের তোড়জোড় শুরু হয়। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের জোরালো অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী বিজেপি নেতা সোমনাথ চক্রবর্তীর মৌখিক সম্মতি ও আশীর্বাদেই ওই সরকারি জমিতে জবরদখল করে দোকান বসানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
প্রতিবাদী এলাকার বাসিন্দা সুজিত মুখোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, এক ব্যক্তি ওই নির্দিষ্ট জমিতে দোকান বসানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাঁকে সরাসরি মদত দেওয়া হয়। এমনকী, ওই নির্মাণকাজে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে এলাকার সমস্ত দোকানপাট তুলে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই ধরনের একপেশে ও প্রকাশ্য হুমকির জেরে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ, আতঙ্ক এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মনে প্রশ্ন জাগছে, সাধারণ মানুষ যেখানে সামান্য মাথা গোঁজার ঠাঁই বা একটু বেদখল জমি ব্যবহার করলেই প্রশাসনের কঠোর রোষানলে পড়েন এবং উচ্ছেদের মুখে পড়েন, সেখানে কীভাবে একজন রাজনৈতিক নেতার মৌখিক সম্মতিতে সরকারি জমিতে একের পর এক দোকানপাট গড়ে উঠতে পারে? আইনের তোয়াক্কা না করে কি তবে এখন থেকে এলাকার ফুটপাথ বা সরকারি জমি বণ্টনের দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতাদের কুক্ষিগত হয়ে পড়েছে?
যদিও এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা সোমনাথ চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, এই ভিডিওটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খণ্ডিত ও বিকৃত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে। তিনি নিজে কাউকে ওই জমিতে বসার জন্য কোনও ধরনের লিখিত বা আইনি অনুমতি দেননি। তবে নিজের সাফাইয়ে তিনি জানান, একজন সাধারণ 'হিন্দু কার্যকর্তা' জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে দোকান করার বিষয়ে তাঁর কাছে মৌখিক আবেদন নিয়ে এসেছিলেন। সেই প্রসঙ্গের উত্তরে তিনি কেবল বলেছিলেন যে, যখন অন্যত্র অনেকেই দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তখন তিনিও তা দেখতে পারেন। একে কোনোভাবেই সরকারি জমিতে জবরদখলের উস্কানি বা আনুষ্ঠানিক অনুমতি হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে দাবি করেছেন ওই বিজেপি নেতা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা। একদিকে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা যেখানে সরকারি জমি রক্ষা এবং জবরদখল অবিলম্বে আটকাতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন, অন্যদিকে এই ভাইরাল ভিডিওকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলি। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরের বিধাননগর এলাকায় সরকারি জমিতে দোকান বসানোর এই বিতর্কিত ঘটনা এখন স্থানীয় রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই সকলের নজর রয়েছে।
দুর্গাপুর
দুর্গাপুরে সরকারি জমিতে দোকান বসানোর অনুমতি ঘিরে তুলকালাম, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে

ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
