আসানসোল: ঝাড়খণ্ড সীমানা পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ কয়লা পাচারের চেষ্টা এবং তা ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল আসানসোলের পঞ্চগাছিয়া এলাকা। শুক্রবার গভীর রাতে একটি অবৈধ কয়লাবোঝাই ট্রাককে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের দিক থেকে আসা একটি বিপুল পরিমাণ কয়লা বোঝাই ১০ চাকার ট্রাক আসানসোলের বরাকর এলাকার ডুবুডিহি চেকপোস্টে প্রবেশ করে। নাকা চেকিং চলাকালীন সন্দেহ হওয়ায় ডিউটিতে থাকা পুলিশ কর্মীরা ট্রাকটিকে থামার নির্দেশ দেন। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতে ঘাবড়ে গিয়ে চালক গতি কমাবারের বদলে মারাত্মক গতিতে ট্রাক চালিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে। মুহূর্তের মধ্যে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের একটি টহলদারি দল ওই দ্রুতগতির ট্রাকটির পিছু ধাওয়া শুরু করে।
পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ট্রাক চালক জাতীয় সড়ক ছেড়ে ভেতরের রাস্তা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। দীর্ঘ পথ ধাওয়া করার পর ট্রাকটি পঞ্চগাছিয়ার জুবিলি এলাকার ব্যাঙ্ক মোড়ের কাছাকাছি পৌঁছালে চরম বিপত্তি ঘটে। অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক এবং কয়লাবোঝাই বিশালাকার ট্রাকটি রাস্তার পাশে থাকা একটি বেশ কয়েক বছরের পুরনো ও পরিত্যক্ত ব্যাঙ্ক ভবনের দেয়ালে সজোরে গিয়ে ধাক্কা মারে।
ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বিকট শব্দে থরথর করে কেঁপে ওঠে সমগ্র জুবিলি এলাকা। গভীর রাতের সেই বিকট শব্দে আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন স্থানীয় শত শত মানুষ। দুর্ঘটনার পর দেখা যায়, ধাক্কার চোট ভবনটির একটি বড় অংশ ভেঙে পড়েছে এবং ট্রাকের সামনের অংশটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার তীব্রতা সত্ত্বেও, সেই মুহূর্তের অন্ধকার ও স্থানীয়দের তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ঘাতক ট্রাকের চালক এবং তার সহযোগী খালাসি ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দিতে সক্ষম হয়।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই আসানসোল উত্তর থানা ও কন্যাপুর ফাঁড়ি থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাকটি থেকে প্রচুর পরিমাণ অবৈধ ইআইবি কয়লা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর ট্রাকটিকে বাজেয়াপ্ত করে টেনে কন্যাপুর ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে উদ্ধার হওয়া কয়লা ঠিক কোথা থেকে আনা হচ্ছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে ঝাড়খণ্ড সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনি কয়লা বোঝাই একের পর এক ভারী ট্রাক জুবিলি ও পঞ্চগাছিয়ার ওপর দিয়ে আসানসোল হয়ে দুর্গাপুর, বর্ধমান এমনকি কলকাতার দিকে পাচার করা হয়। ডুবুডিহি চেকপোস্টের মতো কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে কীভাবে এই বেআইনি কয়লা পাচারকারী ট্রাকগুলো রাজ্যে প্রবেশ করছে, তা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, এই পাচারচক্রের নেপথ্যে কোনো প্রভাবশালী আন্তঃরাজ্য সিন্ডিকেট কাজ করছে, যাদের মদতেই কয়লা মাফিয়ারা এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বসতি এলাকার মধ্য দিয়ে বেপরোয়া গতিতে ওভারলোডেড কয়লার গাড়ি চলাচল করার ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ অবিলম্বে বেআইনি কয়লা পরিবহন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এবং এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আরজি জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পলাতক ট্রাক চালক ও খালাসির খোঁজে বিভিন্ন সম্ভাব্য ডেরায় তল্লাশি শুরু হয়েছে। গাড়ির নম্বর প্লেট ও সনাক্তকরণের তথ্যের ভিত্তিতে মূল মালিক ও কয়লা পাচার চক্রের পান্ডাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। শিল্পাঞ্চলে অবৈধ কয়লা পাচারের শিকড় উপড়ে ফেলতে পুলিশ প্রশাসন আগামী দিনে আরও কঠোর অবস্থান নেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ব্রেকিং নিউজ
চেকপোস্ট এড়িয়ে বেপরোয়া কয়লা পাচার, পঞ্চগাছিয়ায় দুর্ঘটনার পর ফুঁসছেন স্থানীয়রা

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
