Nirbhik Bangla
ব্রেকিং নিউজ

আগে চুরি হয়েছিল শঙ্খ, এবার উধাও ৩০০ বছরের নারায়ণ শিলা, কাঁকসায় পুলিশি তদন্তের দাবি

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০১:১৪ PM
WhatsApp
আগে চুরি হয়েছিল শঙ্খ, এবার উধাও ৩০০ বছরের নারায়ণ শিলা, কাঁকসায় পুলিশি তদন্তের দাবি
কাঁকসা, পশ্চিম বর্ধমান: পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা ব্লকের অযোধ্যা গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বসতবাড়ির পারিবারিক মন্দির থেকে আচমকাই উধাও হয়ে গেল প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ও পূজিত নারায়ণ শিলা। এই অমূল্য ধর্মীয় সামগ্রী চুরির ঘটনায় শুধু মুখার্জি পরিবারই নয়, সমগ্র এলাকাজুড়ে গভীর উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অযোধ্যা গ্রামের বিশিষ্ট মুখার্জি পরিবারের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে এই ঐতিহাসিক নারায়ণ শিলা প্রতিষ্ঠিত ছিল। পরিবারের পূর্বপুরুষদের আমল থেকে অর্থাৎ প্রায় তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন অত্যন্ত নিষ্ঠা ও নিয়মকানুনের সঙ্গে এই শিলার পুজো করে আসছেন পরিবারের সদস্যরা। এটি শুধুমাত্র একটি পাথর বা প্রতিমা নয়, বরং পুরো পরিবারের কাছে পবিত্র কুলদেবতা হিসেবে পরম শ্রদ্ধার পাত্র।

ঘটনার দিন সকালে বরাবরের মতো পরিবারের সদস্যরা মন্দিরে নিত্যপুজো এবং প্রাতঃকৃত্য সম্পন্ন করতে যান। কিন্তু মন্দিরে প্রবেশ করতেই তাদের চক্ষু চড়কগাছ হয়। তারা দেখতে পান, নির্দিষ্ট বেদীর ওপর যেখানে নারায়ণ শিলাটি রাখার কথা, সেটি সেখানে অনুপস্থিত। প্রথমে পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন হয়তো কেউ পুজো দেওয়ার জন্য শিলাটি সরিয়ে রেখেছেন। কিন্তু খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর চাউর হতেই আশপাশের লোকজন মুখার্জি বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে পরিবারের অন্যতম সদস্য পবিত্র মুখার্জি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আমাদের পরিবারের আবেগ এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে এই নারায়ণ শিলাটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনশো বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের পরিবার এই শিলার সেবা করে আসছে। সকালে পুজো দিতে গিয়ে যখন দেখি শিলাটি নেই, তখন আমাদের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছিল। তিনি আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, এর কিছুদিন আগেও একইভাবে মন্দির থেকে একটি মূল্যবান প্রাচীন শঙ্খ চুরি হয়ে গিয়েছিল। একের পর এক এমন ঘটনা ঘটায় এটা স্পষ্ট যে, কোনো একটি নির্দিষ্ট দুষ্কৃতী চক্র এই মন্দিরের ওপর নজর রাখছে এবং সুযোগ বুঝে এই ধরনের জঘন্য কাজ করছে।

কীভাবে এবং কারা এই নারায়ণ শিলাটি সরিয়ে নিয়ে গেল, তা নিয়ে এখনো সম্পূর্ণ ধোঁয়াশায় রয়েছে পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। এটি কি নিছকই চুরির ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রাচীন পারিবারিক মন্দির থেকে পরপর ধর্মীয় সামগ্রী উধাও হওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আকস্মিক ও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকছেন না। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তদন্তের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন তারা। ইতিমধ্যেই ই-মেলের মাধ্যমে কাঁকসা থানার পুলিশ আধিকারিকদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

দিনের পর দিন এই ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা বেড়ে চলায় অযোধ্যা গ্রামজুড়ে এখন চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। এখন দেখার বিষয়, স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে কেমন পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে এই প্রাচীন নারায়ণ শিলার রহস্য উন্মোচিত হয়ে দোষীরা কঠোর শাস্তির মুখে পড়ে কি না। সমগ্র এলাকাবাসী ও মুখার্জি পরিবার এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য