আসানসোলের কুলটি থানার নিয়ামতপুর হরিজন পাড়া ও সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশাল সাইবার অপরাধ চক্র এবং অবৈধ কল সেন্টারের হদিশ মিলেছে। পুলিশের ঝটিকা অভিযানে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এবং সাইবার ক্রাইম থানার আধিকারিকরা যৌথভাবে এই তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় র্যাফ (RAF) এবং কমব্যাট ফোর্স সহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রগুলি চিহ্নিত করে পুলিশ। সন্ধের দিকে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের এসিপি (সাইবার) রাহুল পান্ডে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান যে অভিযান তখনও চলছে এবং একাধিক পুলিশ টিম এই অপারেশনে অংশ নিয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া উপকরণের মধ্যে রয়েছে একাধিক ল্যাপটপ, কম্পিউটার, রাউটার, অ্যান্ড্রয়েড ফোন, আইফোন, ক্রেডিট কার্ড, কি-বোর্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই এবং প্রচুর সিমকার্ড।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশ এদিন সকালে হরিজন পাড়ার কয়েকটি নির্দিষ্ট বাড়িতে হানা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে বন্ধ বাড়ির তালা ভেঙেও তল্লাশি চালানো হয়। এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে পুলিশ লক্ষ্য করে যে, ওই পাড়ার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই সিসি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। অপরাধীরা যাতে পুলিশের গতিবিধি নজরে রাখতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। নিয়ামতপুর ফাঁড়ি এলাকার মুচিপাড়া সহ বিভিন্ন পয়েন্টেও পুলিশের পক্ষ থেকে সাইবার অপরাধ দমনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এসিপি (সাইবার) রাহুল পান্ডে আরও জানান, ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল বা জাতীয় সাইবার ক্রাইম ব্যুরো থেকে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পরেই এই এলাকা চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়। শুধুমাত্র এই নির্দিষ্ট এলাকাতেই এত সিসি ক্যামেরা লাগানোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যে সমস্ত বাড়ি থেকে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে, সেই বাড়ির সাধারণ সদস্যদের এই সমস্ত প্রযুক্তিগত বিষয় বা কম্পিউটার চালানো সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। এর নেপথ্যে কোনো বড় চক্র কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সাইবার অপরাধ চক্রের সঙ্গে কুখ্যাত 'জামতাড়া গ্যাং'-এর কোনো প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করে এই চক্রের মূল পান্ডাদের খোঁজ চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন আসানসোল জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক কেশব পোদ্দার। তিনি বিগত রাজ্য সরকার ও শাসকদলকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, রাজ্যে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করার দাবি তুলে জানান যে অপরাধীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। উত্তরপ্রদেশের আদলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার হুঙ্কার দিয়ে তিনি বলেন, সাইবার ক্রাইম বা জমিও কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ প্রশাসনের এই বড়সড় সাফল্যের পর কুলটি ও নিয়ামতপুর এলাকায় সাইবার অপরাধের শেকড় কতদূর বিস্তৃত, সেটাই এখন খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
অপরাধ
নিয়ামতপুরে সাইবার ডেরায় র্যাফ নামিয়ে পুলিশের ঝটিকা অভিযান, ১২ জনের গ্রেফতারিতে চড়ল রাজনীতির পারদ

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
