Nirbhik Bangla
স্বাস্থ্য

রেফার পেয়েও মিলছে না ঠাঁই! আসানসোল ইএসআই-এ ডায়ালিসিস বন্ধে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রোগীরা

Abdul Haque
Abdul Haque
২৪ আগস্ট, ২০২৬ এ ০৭:৩৩ AM
WhatsApp
রেফার পেয়েও মিলছে না ঠাঁই! আসানসোল ইএসআই-এ ডায়ালিসিস বন্ধে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রোগীরা
Nirbhik Bangla Photo
আসানসোল ইএসআই (ESI) হাসপাতালে ডায়ালিসিস পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কিডনি রোগীরা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকার অজুহাত দেখিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের आसनसोल এবং দুর্গাপুরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, সরকারি নির্দেশিকা বা রেফার নিয়ে রোগীরা যখন নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে পৌঁছাচ্ছেন, তখন সেখানে পর্যাপ্ত বেড খালি নেই বলে জানিয়ে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা ডায়ালিসিস রোগীরা ও তাঁদের পরিবার চরম মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলির সূত্রে জানা গেছে, গত দু'দিন ধরে তারা তাঁদের মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে আসানসোলের বিভিন্ন নার্সিংহোম ও বেসরকারি হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা। বহু জায়গায় বেড না থাকার অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়ায় অসহায় হয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ পরিজনেরা পুনরায় ইএসআই হাসপাতালের চত্বরে সমবেত হন এবং গণমাধ্যমের সামনে নিজেদের ক্ষোভ ও দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।

পরিজনদের স্পষ্ট বক্তব্য, কিডনি বিকল হওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ডায়ালিসিস অত্যন্ত জীবনদায়ী এবং অনিবার্য প্রক্রিয়া। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে সরকারি হাসপাতালে এই পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিকল্প হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দায় সারার প্রবণতা অত্যন্ত অমানবিক। বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর আগে পর্যাপ্ত বেড ও চিকিৎসার সঠিক বন্দোবস্ত নিশ্চিত করা হাসপাতালের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু সঠিক তথ্য ও সহযোগিতার অভাবে রোগীদের শহরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঘুরতে হচ্ছে, যা তাঁদের শারীরিক অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে।

আক্রান্ত পরিবারগুলির জোরালো দাবি, অবিলম্বে আসানসোল ইএসআই হাসপাতালে ডায়ালিসিস পরিষেবা আগের মতো সচল করা হোক, যাতে গরিব ও শ্রমজীবী মানুষগুলো অতিরিক্ত অর্থাভাবে বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য না হন। ডায়ালিসিস রোগীদের শারীরিক অবস্থা সাধারণ রোগীদের তুলনায় অত্যন্ত সংবেদনশীল হয় এবং চিকিৎসায় সামান্য বিলম্বও তাঁদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে।

এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে দিশাহারা রোগীরা আসানসল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন এবং হাসপাতালের এই লেজেগোবরে ব্যবস্থার কথা তাঁকে বিস্তারিতভাবে জানান। তারা ডায়ালিসিস পরিষেবা বন্ধ থাকা এবং অন্য হাসপাতালে বেড না পাওয়ার হাহাকারের চিত্রটি তুলে ধরে বিধায়কের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

সমস্ত পরিস্থিতি ধৈর্য সহকারে শোনার পর বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি রোগীদের অবিলম্বে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি নিজে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য আধিকারিক ও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন। পাশাপাশি, ডায়ালিসিস রোগীদের দুর্ভোগ দ্রুত লাঘব করতে এবং পরিষেবা স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

বর্তমানে লাখ লাখ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— আসানসোল ইএসআই হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কবে নাগাদ ডায়ালিসিস পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে? হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বা টেকনিশিয়ানের অভাব কি দ্রুত দূর হবে? আর ততদিন পর্যন্ত এই জীবনদায়ী চিকিৎসার ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল রোগীদের জন্য বিকল্প ও নিরাপদ ব্যবস্থার রূপরেখা কী হবে?

আপাতত সমস্ত নজর হাসপাতাল প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই রয়েছে। সাধারণ চিকিৎসাধীন রোগীদের পাশাপাশি এই বিশেষ রোগীদের জীবনরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট মহলের টনক নড়বে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
Abdul Haque
Abdul Haque

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য