বাঁকুড়া আবগারি বিভাগের এক গোপন অভিযানে বড়সড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। চোলাই মদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযানের পাশাপাশি এবার মদ তৈরির কাঁচামাল পাচার চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ শুরু করল আবগারি দফতর। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৮০ টিন ঝোলা গুড়সহ বিপুল পরিমাণ চোলাই তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বাঁকুড়া আবগারি দফতর। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই অবৈধ পাচার চক্রের মূল হোতাদের খোঁজার চেষ্টা চলছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ চোলাই মদের কারবার রমরমা রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ। আবগারি দফতর নিয়মিত অভিযান চালিয়ে শত শত লিটার চোলাই মদ নষ্ট করলেও এই সামাজিক ব্যাধি সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই মদ তৈরির শেষ পণ্যের পাশাপাশি এবার কাঁচামালের সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে প্রশাসন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আবগারি আধিকারিকরা জানতে পারেন যে, গোপনে গাড়ি করে চোলাই তৈরির বিপুল পরিমাণ রসদ পাচার করা হচ্ছে। সেইমতো বাঁকুড়ার ডুমুরজুড়ি এলাকায় একটি ছোট হাতি গাড়িকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় আধিকারিকদের। গাড়ি থেকে একে একে উদ্ধার হয় ৮০ টিন ঝোলা গুড়, যা চোলাই মদ তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। গুড়ের পাশাপাশি চোলাই তৈরির বিভিন্ন রাসায়নিক ও অন্যান্য সরঞ্জামও বাজোপ্ত করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে আবগারি আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন যে, এই বিপুল পরিমাণ গুড় ও অন্যান্য সামগ্রী অত্যন্ত সুকৌশলে গোপনে অবৈধ মদ তৈরির আঁতুড়ঘরগুলিতে সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গাড়ি চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত এবং জেলার ঠিক কোন কোন এলাকায় এই কাঁচামাল সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
বাঁকুড়া আবগারি বিভাগের এই পদক্ষেপে খুশি স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের মতে, শুধু তৈরি মদ ধ্বংস না করে যদি এই ধরনের কাঁচামালের পাচার পুরোপুরি রুখে দেওয়া যায়, তবেই অবৈধ চোলাই মদের রমরমা ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব হবে। আবগারি দফতরের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, চোলাইয়ের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনে আরও জোরালো করা হবে।
রাজ্য
চোলাই মদ নয়, এবার মদ তৈরির কাঁচামাল পাচার চক্রের হদিশ বাঁকুড়ায়

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Bankura
