বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে আসানসোলে পথকুকুরদের সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এক বিশেষ অ্যান্টি-রেবিস টিকাকরণ অভিযানের আয়োজন করা হলো। আসানসোল রবীন্দ্র ভবনের সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কেবল প্রতিষেধক প্রদানই নয়, বরং পথপশুদের ওপর অবহেলা ও অত্যাচার বন্ধের বার্তা দিয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
'আয়ুদার – দ্য ভয়েস অফ অ্যানিম্যালস' (Ayudar – The Voice of Animals)-এর উদ্যোগে এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতরের সার্বিক সহযোগিতায় এই যৌথ কর্মসূচিটি সফলভাবে রূপায়িত হয়। বিকেলে আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনের প্রধান গেটের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শহরের একাধিক পশুপ্রেমী, পরিবেশকর্মী ও প্রাণিসম্পদ দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পথকুকুরদের জলাতঙ্কের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং পশুকল্যাণ ও মানব সুরক্ষার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখাই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায়, সামাজিক ও পশুকল্যাণ কর্মী তারা নাগ, পার্থ গাঙ্গুলি, লিপিকা চক্রবর্তী, তনুশ্রী সিনহা, মহুয়া মুখোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে। অভিজ্ঞ টিকাকরণ দল ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় রবীন্দ্র ভবন ও আশপাশের এলাকার বহু পথকুকুরকে চিহ্নিত করে নিরাপদে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞ ও পশুপ্রেমীরা জানান, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক ও মারণ ব্যাধি হলেও সঠিক সময়ে প্রতিষেধক টিকাকরণের মাধ্যমে এটি শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক নির্মূল’ করার লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে এই ধরনের স্থানীয় গণ-টিকাকরণ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসক ডা. ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, “মানুষের নিরাপত্তা এবং পথপশুদের স্বাস্থ্য—দুটোই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। কেবল মানুষকে সতর্ক করলেই হবে না, পথকুকুরদের নিয়মিত অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন দিলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।”
টিকাকরণের পাশাপাশি এদিন পথপশুদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত পশুপ্রেমীরা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, আসানসোলের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় পথকুকুরদের খাবার দিতে গেলে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রায়শই কটূক্তি ও বাধার মুখে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে নিরীহ পশুদের ওপর অযথা লাঠিচার্জ বা শারীরিক নির্যাতনের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটে।
পশুপ্রেমীদের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় যে, দেশের আইন অনুযায়ী পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা দণ্ডনীয় অপরাধ। পথপশুদেরও এই পৃথিবীতে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। সমাজকে নিরাপদ ও জলাতঙ্কমুক্ত করতে হলে পশুদের প্রতি শত্রুতা নয়, বরং ভালোবাসা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
আয়োজক সংস্থা 'আয়ুদার'-এর প্রতিনিধিরা বলেন, “জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করুন, পশুদের রক্ষা করুন এবং একটি নিরাপদ ও সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুন—এই বার্তাই আমরা গোটা আসানসোলবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চাই।” জনস্বার্থে এবং পশুকল্যাণে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতরের এই সহযোগিতা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত সকলে।
আসানসোল
পশুদের ওপর অত্যাচার নয়, ভালোবাসাই পারে আসানসোলকে জলাতঙ্কমুক্ত করতে: আয়ুদার উদ্যোগ

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
