Nirbhik Bangla
পশ্চিম বর্ধমান

জনস্বাস্থ্যে আপস নয়, পানাগড়ের একাধিক খাদ্য বিপণন কেন্দ্রে কড়া নজরদারি

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ০১:২৮ PM
WhatsApp
জনস্বাস্থ্যে আপস নয়, পানাগড়ের একাধিক খাদ্য বিপণন কেন্দ্রে কড়া নজরদারি
Nirbhik Bangla Photo
পানাগড়ে হোটেল ও দোকানে অভিযানে ফুড সেফটি দপ্তর, মালিকদের কঠোর সতর্কবার্তা

পানাগড় ও কাঁকসা, ২ সেপ্টেম্বর: রাজ্যের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে কোনো প্রকার ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত না করতে নবান্নের কড়া নির্দেশিকার পরেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। কলকাতা সহ গোটা রাজ্য জুড়ে গত কয়েক দিন ধরে একের পর এক হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য বিপণন কেন্দ্রগুলিতে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে রাজ্য ফুড সেফটি দপ্তর। বাসি, পচা খাবার বিক্রি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না, নিম্নমানের মশলার ব্যবহার এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী মজুত রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতেই প্রশাসনের তরফে এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এই রাজ্যব্যাপী অভিযানের অঙ্গ হিসেবে এবার পশ্চিম বর্ধমান জেলাজুড়েও শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি ও পরিদর্শন। হোটেল-রেস্তোরাঁর পাশাপাশি ছাড় পাচ্ছে না রাস্তার ধারের ছোট খাবারের দোকান, ফাস্টফুডের ঠেলাগাড়ি এমনকি ভ্রাম্যমাণ খাবারের স্টলগুলিও।

এই অভিযانের অংশ হিসেবে বুধবার সকাল থেকেই পানাগড় বাজারের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় একঝাঁক সরকারি আধিকারিককে নিয়ে একটি বিশেষ যৌথ অভিযান চালানো হয়। এদিনের এই আকস্মিক তল্লাশি অভিযানে ফুড সেফটি দপ্তরের নির্দিষ্ট অফিসারদের পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন কাঁকসা থানার আইসি, কাঁকসার ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) সৌরভ গুপ্ত এবং স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। হঠাৎ এই প্রশাসনিক টিমকে বাজারে প্রবেশ করতে দেখে খাদ্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে সাময়িক চাঞ্চল্য ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার সকাল থেকেই পানাগড় বাজারের একাধিক নামী-দামী মিষ্টির দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং জনপ্রিয় বিরিয়ানির কাউন্টারগুলিতে একে একে হানা দেয় সরকারি আধিকারিকদের এই যৌথ দলটি। দোকানগুলির অন্দরমহল থেকে শুরু করে রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, খাবার তৈরির জলের উৎস, বারবার ব্যবহারের ফলে বিষাক্ত হয়ে ওঠা রান্নার তেল, মশলার মান এবং ফ্রিজে সংরক্ষিত কাঁচা ও রান্না করা খাবারের মেয়াদ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। বেশ কিছু হোটেল ও মিষ্টির দোকানে ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার, পচা উপকরণ এবং অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরির প্রত্যক্ষ প্রমাণ মিলতেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন আধিকারিকরা। প্রাথমিক পর্যায়ে দোকান মালিকদের কঠোর ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে বড় শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সন্দেহভাজন খাদ্যসামগ্রী ও তেলের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিনের এই আকস্মিক অভিযান শেষে প্রশাসনিক আধিকারিকরা সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান যে, সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্যের সাথে কোনো রকম আপস করা হবে না। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে অত্যন্ত কড়া নির্দেশিকা রয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা না ভেবে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে কেউ যদি বাসি, পচা বা নিম্নমানের খাবার বিক্রি করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধুমাত্র আইনি পদক্ষেপই নয়, সাধারণ ক্রেতাদেরও এ বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি, প্রশাসনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরণের অভিযান শুধুমাত্র একদিনের জন্য নয়, বরং জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে আগামী দিনেও পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এই তল্লাশি অভিযান লাগাতার অব্যাহত থাকবে।

তদন্তকারী আধিকারিকরা আরও বিস্তারিতভাবে জানান যে, ফুড সেফটি স্ট্যান্ডার্ড অ্যাক্ট অনুযায়ী হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকান পরিচালনা করার জন্য যে সমস্ত সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী ও গাইডলাইন রয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কিনা, সেটাই ছিল এদিনের অভিযানের মূল লক্ষ্য। পরিদর্শনের সময় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে খাবারে উপাদানগত গরমিল এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত নানা অনিয়ম নজরে এসেছে। যদিও প্রথমবার অপরাধের মাত্রা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের বড় জরিমানা না করে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে ব্যবসা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপে পানাগড় ও কাঁকসা অঞ্চলের অসাধু খাদ্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখন থেকেই যথেষ্ট আতঙ্ক ও সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য