Nirbhik Bangla
বিনোদন

এসআইআর শুনানির আগেই আত্মহত্যা ৭০ বছরের বৃদ্ধের:: অরবিন্দ নগরে মর্মান্তিক ঘটনা

_____________________ সালানপুর ব্লক থেকে শুরু করলাম আর-ইর কথা। ওই ব্যক্তি ও তার ছোট মেয়ের নাম ভোটার তালিকায় ছিল না, তাদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। কিন্তু...

Abdul Haque
Abdul Haque
১৯ মে, ২০২৬ এ ১১:৩৬ PM
WhatsApp
এসআইআর শুনানির আগেই আত্মহত্যা ৭০ বছরের বৃদ্ধের:: অরবিন্দ নগরে মর্মান্তিক ঘটনা
_____________________ সালানপুর ব্লক থেকে শুরু করলাম আর-ইর কথা। ওই ব্যক্তি ও তার ছোট মেয়ের নাম ভোটার তালিকায় ছিল না, তাদের শুনানির জন্য |নির্ভীক বাংলা ফটো

_____________________

সালানপুর ব্লকে এস আই আর- এর বলি হলেন ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ। ‌ ওই ব্যক্তি এবং তার ছোট মেয়ের খসড়া ভোটার তালিকায় নাম ছিল না, ডাক পেয়েছিলেন শুনানিতে। ‌ কিন্তু এ্যডমিট কার্ড নেওয়া হচ্ছে না, পিএফ পেনশন বুকও যথাযথ নথি নয় - এইসব নানান গরমিলের মাঝে পড়ে ভয়ংকর চাপ অনুভব করছিলেন তিনি। ‌ শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে ঐ বৃদ্ধ নিজের বাড়িতেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনেরা হা-হুতাশ করছেন। অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এই অঘটন ঘটেছে আজ ১৮ জানুয়ারি বেলা বারোটা নাগাদ হিন্দুস্তান কেবলস সংলগ্ন অরবিন্দ নগরের ৭ নম্বর রাস্তায়। চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার প্রাক্তন কর্মী নারায়ণ চন্দ্র সেনগুপ্ত (৭০) পরিবার নিয়ে এখানেই দীর্ঘকাল বসবাস করছেন। ‌ তার তিন মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার। তিন মেয়েই বিবাহিতা। কিন্তু ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর পর নারায়ণ বাবু জানতে পারেন তার এবং তার ছোট মেয়ে দুজনের খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই। বিষয়টি নিয়ে তিনি যথেষ্ট চাপে পড়ে গিয়েছিলেন বলে তার বন্ধু-বান্ধবেরা জানাচ্ছেন। প্রায়ই এই বিষয়টি তিনি তাদের কাছে উল্লেখ করতেন এবং শেষ পর্যন্ত কি হবে তাই নিয়ে ঘাবড়ে থাকতেন। সংশ্লিষ্ট বি এল ও শান্তনু দাসকেও তিনি শুনানিতে ডাক পাওয়ার বিষয়টি জানালে শান্তনু বাবু তাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন তিনি শুনানির সময় থাকবেন কোনো অসুবিধা হবে না। ‌ এদিকে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার অবসরপ্রাপ্ত অন্যান্য সংগীদের কাছেও সান্ধ্য আড্ডায় এই বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার আলোচনা করেছেন। যদি তার কাছে থাকা তথ্য কমিশনের লোকজন মেনে না নেন তাহলে তার এবং তার ছোট মেয়ের কি হবে সেই নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। ‌ নারায়ণ বাবুর প্রতিবেশী সমাজকর্মী প্রিন্স দাস বলেন দিন তিনেক ধরেই নারায়ণ বাবু অত্যন্ত চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন। আজ সকালে তিনি পাড়ার সেলুনে দাড়ি কাটিয়েছেন। তারপর রবিবারের সকাল হওয়ায় দস্তুর মতো বাজার করেছেন। ‌ এরপর দোতলা বাড়ির নিচের তলায় স্ত্রী এবং ছোট কন্যার হাতে বাজারের থলে দিয়ে উপর তলায় গেছেন। সেখানেই নারায়ণ বাবু বিছানার চাদর দিয়ে সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ঝুলিয়ে নিজেকে শেষ করে দিলেন। তাঁর এই মর্মান্তিক পরিণতি স্থানীয় মানুষজন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। যদিও সকলেই তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, শুনানিতে বহু মানুষ ডাক পেয়েছেন - সেই রকম তিনিও পেয়েছেন এতে অসুবিধার কিছু নেই। কিন্তু এই চাপ সহ্য করা তার কাছে মুশকিলের হয়ে উঠেছিল বলে তারা মনে করছেন। ‌ এদিকে দেখা যাচ্ছে ২০০২ ভোটার তালিকায় সংশ্লিষ্ট বুথে ১০০২ সিরিয়াল নম্বরে তার মেয়ের নামের পাশে পিতা হিসেবে নারায়ণ বাবুর নাম উল্লেখ করা আছে। যদিও সেই তালিকায় নারায়ণ বাবুর নিজের নামটি নেই। এই ঘটনা নানান রকম বিভ্রান্তিমূলক প্রচার এবং নির্বাচন কমিশনের ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ও শুনানিতে তথ্য হিসেবে জমা দেওয়া নথিপত্রের ঘন ঘন পরিবর্তনই দায়ী বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন। চরম এই ঘটনায় তার অসুস্থ স্ত্রী বাকরোহিত হয়ে পড়েছেন, শোকে পাথর হয়ে গেছেন তার কন্যা।

Abdul Haque
Abdul Haque

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য
এসআইআর শুনানির আগেই আত্মহত্যা ৭০ বছরের বৃদ্ধের:: অরবিন্দ নগরে মর্মান্তিক ঘটনা | নির্ভীক বাংলা | নির্ভীক বাংলা