Nirbhik Bangla
লাইফস্টাইল

দারিদ্র্যকে জয় করে NEET-UG 2026-এ সাফল্য, এমবিবিএসে পড়ার যোগ্যতা অর্জন কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের ছাত্র রাজিবুলের

নির্ভীক বাংলা, বাইজিদ মন্ডল,দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং অবিচল অধ্যবসায় থাকলে যে প্রতিকূলতাকেও জয় করা যায়, তারই উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করলেন দক্ষিণ ২৪ পরগন...

Abdul Haque
Abdul Haque
১৫ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:০৬ AM
WhatsApp
দারিদ্র্যকে জয় করে NEET-UG 2026-এ সাফল্য, এমবিবিএসে পড়ার যোগ্যতা অর্জন কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের ছাত্র রাজিবুলের
নির্ভীক বাংলা, বাইজিদ মন্ডল,দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং অবিচল অধ্যবসায় থাকলে যে প্রতিকূলতাকেও জয় করা যায়, তারই উজ|নির্ভীক বাংলা ফটো

নির্ভীক বাংলা, বাইজিদ মন্ডল,দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং অবিচল অধ্যবসায় থাকলে যে প্রতিকূলতাকেও জয় করা যায়, তারই উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের কৃতি ছাত্র রাজিবুল ইসলাম মোল্লা। সম্প্রতি প্রকাশিত NEET-UG 2026 পরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ২০,৬১৯তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করে তিনি এমবিবিএস (MBBS) কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। রাজিবুলের এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুল, বায়তুল হিকমা মিশন এবং সমগ্র এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। সাধারণ আর্থিক অবস্থার পরিবার থেকে উঠে এসে জাতীয় স্তরের কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করে তিনি প্রমাণ করেছেন, মেধা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনো বাধাই সাফল্যের পথে অন্তরায় হতে পারে না। রাজিবুল পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মন্দিরবাজার ব্লকের আচনা হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ২০২৩ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৫০০-র মধ্যে ৪৫০ নম্বর পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে NEET-এর প্রস্তুতি নেন এবং শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেন। শনিবার, ১৮ জুলাই, বিদ্যালয়ের প্রাতঃসমাবেশে রাজিবুলকে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা নফুর আলী মোল্লা, বিশিষ্ট সমাজসেবী মেহতাব উদ্দিন গাজী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্দন কুমার মাইতি বলেন, “সাত ভাইবোনের মধ্যে ষষ্ঠ সন্তান রাজিবুল তার পরিবার, বিদ্যালয় এবং সমগ্র এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে একজন দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে সে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করবে এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।” রাজিবুলের বাবা নফুর আলী মোল্লা গ্রামের একটি ছোট দোকান চালিয়ে দশ সদস্যের সংসারের দায়িত্ব সামলান। মা মারিয়াম বিবি একজন গৃহবধূ। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে পরিবারের নিরলস ত্যাগ ও সংগ্রামই আজকের এই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। রাজিবুলের এই অসাধারণ কৃতিত্বে এলাকাবাসী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহপাঠী এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সকলের আশা, তিনি ভবিষ্যতে একজন সফল ও মানবিক চিকিৎসক হয়ে সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়াবেন এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।

Abdul Haque
Abdul Haque

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য