Nirbhik Bangla
অপরাধ

খুন নাকি আত্মহত্যা? পাণ্ডবেশ্বরের যুব তৃণমূল সভাপতির স্ত্রীর মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ০৬:২৮ AM
WhatsApp
খুন নাকি আত্মহত্যা? পাণ্ডবেশ্বরের যুব তৃণমূল সভাপতির স্ত্রীর মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য
Nirbhik Bangla Photo
পশ্চিম বর্ধমান:- আসানসোল শিল্পাঞ্চলের জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত কেন্দা ফাঁড়ির সোনপুর গ্রামে এক তৃণমূল যুবনেতার বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রীর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা এলাকায়। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা জল্পনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতার নাম পম্পা মণ্ডল, বয়স ৪০ বছর। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে কি পারিবারিক কলহ, আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে পুলিশ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে সোনপুর গ্রামে নরোত্তম মণ্ডল ওরফে নিতাইয়ের বাড়ি থেকে পম্পা দেবীর পোড়া দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কেন্দা ফাঁড়ির পুলিশ বাহিনী। তারা বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। এই ঘটনার পরই মৃতার স্বামী তথা পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নরোত্তম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত নরোত্তম মণ্ডল পাণ্ডবেশ্বরের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং তৎকালীন বিধায়ক ও জেলা সভাপতি নরেন চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে, মৃতার বাপের বাড়ি আসানসোলেরই সালানপুর থানার সামডি গ্রামে। মেয়ের আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং জামাইয়ের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তের দাবি তুলেছেন।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গত বিধানসভা বা পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণের জেরে নরোত্তম মণ্ডল দীর্ঘদিন এলাকাছাড়া ছিলেন। পরবর্তীতে ভোট-পরবর্তী হিংসা, এলাকার দাদাগিরি, তোলাবাজি এবং একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগে তাঁর নাম জড়ায় এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বেশ কিছুদিন আসানসোল ও রানিগঞ্জ সংশোধনাগারে জেল খেটে সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। ঠিক এমন একটি সময়ে তাঁর নিজ বাসভবন থেকেই স্ত্রীর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নানা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, পম্পা মণ্ডল কি নিজেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে? ঘরের ভিতরে কীভাবে আগুন লাগল এবং সেই সময় বাড়িতে আর কে কে উপস্থিত ছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যুব তৃণমূল নেতার স্ত্রীর এই রহস্যমৃত্যুর প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে পুলিশ ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে, এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম বর্ধমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য বজায় রয়েছে।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য
খুন নাকি আত্মহত্যা? পাণ্ডবেশ্বরের যুব তৃণমূল সভাপতির স্ত্রীর মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য | নির্ভীক বাংলা