আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ: আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত জাতীয় সড়কের ওপর অবস্থিত গরুঈ ব্রিজের বেহাল ও জরাজীর্ণ রাস্তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ অবশেষে প্রকাশ্যে এল। ব্রিজের ওপরের পিচ উঠে তৈরি হওয়া বড় বড় গর্ত এবং তার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা লোহার রডগুলোর কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের পথ দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে গাড়ি চালকরা।
উল্লেখ্য, এই গরুঈ ব্রিজটি কলকাতা-দিল্লি এবং দিল্লি-কলকাতা রুটে যাতায়াতকারী ভারী ও হালকা উভয় প্রকার যানের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি করিডোর। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে এই সেতুটির ওপরের অংশের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে তা নিত্যযাত্রীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তার বেহাল দশার কারণে প্রায়শই এই ব্রিজের ওপর দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে, যার ফলে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নষ্ট হচ্ছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ প্রশমিত করতে আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় নিজেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং গরুঈ ব্রিজ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি সেতুর ওপরের বিভিন্ন অংশের ফাটল, গভীর গর্ত এবং বাইরে বেরিয়ে থাকা বিপজ্জনক লোহার রডগুলো নিজে খতিয়ে দেখেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, "জাতীয় সড়কের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওভারব্রিজের ওপর একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ভিতরের লোহার রডগুলো বেরিয়ে বাকা হয়ে গেছে, যা যেকোনো ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এছাড়াও, এই ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে সন্ধ্যার দিকে তীব্র যানজটের সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।"
সমস্যাটির দ্রুত সমাধানের লক্ষে তিনি দায়িত্বশীল মহলে যোগাযোগ করেছেন বলে জানান। বিধায়ক বলেন, তিনি ইতোমধ্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM)-এর সাথে কথা বলেছেন এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI)-এর পদস্থ আধিকারিকদের সাথেও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। NHAI-এর পক্ষ থেকে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে গরুঈ ব্রিজের এই জরাজীর্ণ রাস্তার মেরামত ও সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলা হবে।
এখন মূল প্রশ্ন হলো, এনএইচএআই (NHAI)-এর এই আশ্বাসের পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সত্যি সত্যিই গরুঈ ব্রিজের সংস্কার কাজ শেষ হয় কিনা। স্থানীয় জনসাধারণ ও গাড়িচালকরা এখন অধীর আগ্রহে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত এই বেহাল রাস্তার মেরামত সম্পন্ন হলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, তেমনই দীর্ঘদিনের যানজটের চিরস্থায়ী সমাধান মিলবে।
ব্রেকিং নিউজ
ঝুঁকিপূর্ণ গরুঈ ব্রিজ পরিদর্শন করলেন বিধায়ক, সংস্কারের আশ্বাস NHAI-এর

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
