Nirbhik Bangla
অপরাধ

গুরুর মুখোশ খুলল আসানসোলে! ফাঁকা বাড়িতে নাবালক পড়ুয়াকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
৩ নভেম্বর, ২০২৬ এ ০৮:০৬ AM
WhatsApp
গুরুর মুখোশ খুলল আসানসোলে! ফাঁকা বাড়িতে নাবালক পড়ুয়াকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ
Nirbhik Bangla Photo
আসানসোলে এক শিক্ষককে ঘিরে উঠল ১০ বছরের এক নাবালক শিশুর সঙ্গে যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার হীরাপুর থানার অন্তর্গত ধ্রুব ডাঙাল এলাকায়। সমাজের অন্যতম চালিকাশক্তি এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে যাঁদের গণ্য করা হয়, সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধেই এমন জঘন্য অভিযোগ ওঠায় ধিক্কার জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষক এলাকারই একটি নামী কোচিং সেন্টার বা গৃহশিক্ষক হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের পড়াশোনায় শিশুটি কিছুটা দুর্বল—এই অজুহাত সামনে রেখে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটির পরিবারকে অতিরিক্ত ক্লাস করানোর লোভ দেখান এবং আশ্বস্ত করেন যে তিনি শিশুটির পড়াশোনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। সেই সুবাদেই গত কয়েক দিন ধরে শিশুটিকে নিজের বাড়িতে পড়াশোনার জন্য পাঠাতে বলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অতিরিক্ত পড়ানোর নাম করে ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে শিশুটির সঙ্গে এই নৃশংস ও অমানবিক অপরাধ ঘটানো হয়। প্রথমে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখলেও পরবর্তীতে শিশুটির আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায় এবং সে তার পরিবারের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। এই লোমহর্ষক তথ্য জানাজানি হতেই মুহূর্তের মধ্যে আকাশ ভেঙে পড়ে শিশুটির পরিবারের মাথায়। এরপর আর কালবিলম্ব না করে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে সাহসিকতার সঙ্গে হীরাপুর থানায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গুরুত্ব অনুধাবন করে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। অভিযোগ দায়ের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু যেইমাত্র পুলিশ অভিযুক্তকে ভ্যানে তোলার চেষ্টা করে, তখনই পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জড়ো হন।

পুলিশের উপস্থিতিতেই উত্তেজিত জনতা চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের চোখের সামনেই অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘিরে ধরে চটি ও জুতো পেটা করা হয়। একপর্যায়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার উপক্রম হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বাধ্য হয়ে পুলিশ বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয় এবং উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করতে হয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো আসানসোল শিল্পাঞ্চল জুড়েই ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। একজন গুরুর বিরুদ্ধে এমন পৈশাচিক অভিযোগ সামনে আসায় সমাজের মূল ভিত্তিমূল নড়ে উঠেছে। অভিভাবকরা তাঁদের কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে শিক্ষক সমাজের নৈতিকতা এবং এই ধরনের ব্যক্তিদের চরিত্রগত স্খলন নিয়ে।

বর্তমানে হীরাপুর থানার পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা-নজরদারি এবং গোপন জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের সম্পূর্ণ সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এখন সকলের নজর রয়েছে পুলিশের তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং আদালতের রায়ের দিকে।

উল্লেখ্য, আইনি বিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে এবং নিগৃহীত শিশুটির পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে তার নাম, ছবি বা কোনো প্রকার পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে না।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য