পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত বরাকর ফাঁড়ি এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনার সাফল্যজনক কিনারা করল পুলিশ। চুরির সোনা ও রুপোর অলঙ্কার উদ্ধারের পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত এক ১৭ বছরের নাবালককে উদ্ধার করে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের মাধ্যমে হোমে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে বরাকরের ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের করিমডাঙাল এলাকার বাসিন্দা পঙ্কজ শ্রীবাস্তবের বাড়িতে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। দুষ্কৃতীরা ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে দরজার লক ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে এবং আলমারি তছনছ করে আনুমানিক এক লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের সোনা ও রুপোর গয়না নিয়ে চম্পট দেয়। এই ঘটনায় গৃহকর্তা পঙ্কজ শ্রীবাস্তব বরাকর ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কুলটি এসিপি এমডি জাভেদ হুসাইনের নির্দেশে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে করিমডাঙাল এলাকার বাসিন্দা ওই ১৭ বছরের নাবালককে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে চুরির কথা স্বীকার করে এবং পুলিশকে জানায় যে চুরি করা অলঙ্কারগুলি সে বিক্রি করে দিয়েছে। এরপরই নাবালকটিকে হেফাজতে নিয়ে জুভেনাইল বোর্ডে পাঠানো হয়।
নাবালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বরাকর ফাঁড়ির পুলিশ জানতে পারে যে ঝাড়খণ্ডের নিরসার বাসিন্দা রিন্টু মাঝি নামে এক ব্যক্তি বৈগুনিয়া দুর্গামন্দির সংলগ্ন এলাকায় তাঁর দোকান থেকে ওই চোরাই গয়নাগুলি কেনেন। কালবিলম্ব না করে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রিন্টু মাঝিকে গ্রেফতার করে। তাকে আসানসোল মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশি রিমান্ডের নির্দেশ দেন।
হেফাজতে থাকাকালীন ধৃত রিন্টু মাঝিকে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বুধবার এএসআই অসীম চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পুলিশ দল রিন্টুর দোকানে দ্বিতীয় দফায় জোরদার অভিযান চালায়। দোকান থেকে চুরির সামগ্রীর একটি বড় অংশ, যার মধ্যে প্রায় ২৫০ গ্রাম রুপো এবং ৬ থেকে ৭ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
বিষয়টি নিয়ে বুধবার বরাকর ফাঁড়িতে এক সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে কুলটির এসিপি এমডি জাভেদ হুসাইন, কুলটি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (আইসি) অশোক সিংহ মহাপাত্র, বরাকর ফাঁড়ির ইনচার্জ অঞ্জন রজক এবং এএসআই অসীম চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন। এসিপি জানান, অপরাধ দমনে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। চোরাই মাল কেনাও আইনত বড় অপরাধ, তাই ওই ব্যবসায়ীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত রিন্টু মাঝিকে বৃহস্পতিবার পুনরায় আসানসোল আদালতে পেশ করা হবে। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো আন্তঃরাজ্য গ্যাং বা স্থানীয় অসাধু ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বরাকর পুলিশ তাদের তদন্ত ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
অপরাধ
বরাকরে সোনা চুরির ঘটনায় বড় সাফল্য পুলিশের, উদ্ধার লক্ষাধিক টাকার অলঙ্কার

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
