Nirbhik Bangla
আসানসোল

শিশুর পুষ্টি ও সুরক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন, আসানসোলের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে পরিদর্শনে বিজেপি

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
৫ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০২:১১ PM
WhatsApp
শিশুর পুষ্টি ও সুরক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন, আসানসোলের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে পরিদর্শনে বিজেপি
Nirbhik Bangla Photo
শ্যাম দাস, আসানসোল: আসানসোল পুরনিগমের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক আইসিডিএস (ICDS) বা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বেহাল দশা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে স্থানীয় এলাকায়। বিশেষ করে ১৫৭, ১৫৫ এবং ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিষেবা নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, শিশুদের জন্য সরকার যে পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দ করেছে, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার শিশুরা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় শিশুদের পুষ্টি ও সুরক্ষা নিয়ে বড়োসড়ো প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, ১৫৫ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। খোলা নর্দমা এবং যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা আবর্জনার ঠিক পাশেই শিশুদের জন্য দুপুরের খাবার রান্না করা হচ্ছে, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর। এই খবর পেয়ে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল ১৫৭ নম্বর কেন্দ্রে উপস্থিত হয় এবং কেন্দ্রের পরিচালিকা রেখা চক্রবর্তীর কাছে এই অব্যবস্থার বিষয়ে জবাবদিহি চায়। সেই সময় রান্নাঘরের দায়িত্বে থাকা এক মহিলা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান যে, ওই দিন নির্ধারিত নিয়মে শিশুদের জন্য কোনো খাবারেরই সঠিক ব্যবস্থা করা হয়নি।

অন্যদিকে, ১০৭ নম্বর কেন্দ্রের ছবি আরও হতাশাজনক। পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা কোনো পরিচালিকা বা একজনও শিশু উপস্থিত নেই। অথচ রান্নাঘর খোলা এবং সেখানে রান্না চলছে! স্থানীয়দের অভিযোগ, ৩০ জন রেজিস্টার্ড শিশুর জন্য মাত্র ১০টি সেদ্ধ ডিম বরাদ্দ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। শুধু তাই নয়, শিশুদের জন্য সরকার থেকে যে চাল, ডাল ও অন্যান্য রেশন সামগ্রী পাঠানো হয়, তা রান্না না করে বাইরে কালো বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। যদিও এই অভিযোগগুলির কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্যতা এখনও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এই সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ঘটনাস্থলে যান বিজেপির জেলা সেক্রেটারি বেবি রায়। তিনি নিজে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অবুঝ শিশুদের পুষ্টির মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজ্য সরকার তথা প্রশাসনের নজরদারি কেন এত শিথিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল। অবিলম্বে এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবিও উঠেছে।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য