উদ্বাস্তু ও মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুব শীঘ্রই নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া পুরোপুরি ও দাপটের সঙ্গে শুরু হতে চলেছে। দুর্গাপুরে আয়োজিত এক বিশেষ ও জনবহুল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান মুখ শান্তনু ঠাকুর। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান যে, সাধারণ মানুষের নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও অনেক বেশি সহজ, সরল, জনমুখী ও গতিশীল করতে এবার সরাসরি জেলা শাসকের কাছে আবেদন করার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। রবিবার দুর্গাপুরের ইস্পাতনগরীর বিধান ভবনে পশ্চিম বর্ধমান জেলা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের উদ্যোগে আয়োজিত 'মতুয়া সেনা'র নতুন কমিটি গঠন সংক্রান্ত এক বর্ণাঢ্য মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বিগত দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পূর্ববর্তী বিভিন্ন সরকারের উদাসীন ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশ থেকে বহু মানুষ রাজনৈতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা কারণে ভারতে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ দীর্ঘ দশক ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই অত্যন্ত সংবেদনশীল মানবিক বিষয়টিকে কেবল নিজেদের সংকীর্ণ ভোটের রাজনীতি হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা টালবাহানা ও কালক্ষেপণ চালিয়ে গেছে। এর ফলে এই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানসহ বহু মৌলিক সরকারি পরিষেবা থেকেও বঞ্চিত থেকেছেন। বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি জোরালো দাবি জানান যে, দেশ ও রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই একটি দৃঢ়, স্বচ্ছ ও জনমুখী প্রশাসন অত্যন্ত জরুরি। কেন্দ্র সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছা এবং ঐতিহাসিক আইন সংশোধনের ফলেই আজ এই দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যার একটি স্থায়ী, আইনি ও সম্মানজনক সমাধানের পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে তিনি জোরালো মত প্রকাশ করেন।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ (CAA) বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ টেনে এনে শান্তনু ঠাকুর উপস্থিত হাজার হাজার জনতাকে জানান যে, খুব শীঘ্রই এই প্রক্রিয়া আরও ব্যাপক ও ত্বরান্বিত আকারে চালু হতে চলেছে। জেলা শাসকদের মাধ্যমেই এই সমস্ত নথিপত্র যাচাই এবং নাগরিকত্ব প্রদানের কাজ দ্রুত সম্পাদিত হবে, যার ফলে গোটা প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত, ত্রুটিহীন এবং স্বচ্ছ হবে বলে তিনি আশাবাদী। এদিনের এই মহাসম্মেলনে কেবল রাজনৈতিক বা নাগরিকত্ব ইস্যুই নয়, বরং সমাজ সংস্কার এবং সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। নবগঠিত মতুয়া সেনা কমিটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করে তিনি জানান যে, এই সংগঠন কেবল রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিমণ্ডলের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সাধারণ মানুষের যেকোনো বিপদে-আপদে নিরন্তর পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করার পাশাপাশি, নাগরিকত্বের আবেদনপত্র সঠিকভাবে পূরণ করা এবং তৎসংক্রান্ত অন্যান্য আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটাতে সাধারণ মানুষকে সর্বাত্মক সাহায্য করবে এই কমিটির সদস্যরা।
এদিনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল অনুষ্ঠানে শান্তনু ঠাকুর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধি। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিধায়ক সোমা ঠাকুর, লক্ষ্মণ ঘোরুই, চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ এবং মতুয়া সেনার বিভিন্ন স্তরের জেলা নেতৃত্ব ও বিপুল সংখ্যক উৎসাহী কর্মী-সমর্থক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই যুগান্তকারী ঘোষণার পর দুর্গাপুর সহ গোটা পশ্চিম বর্ধমান জেলার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উৎসাহ, আনন্দ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়। নতুন কমিটি গঠনের পাশাপাশি নাগরিকত্ব প্রাপ্তির এই জোরালো আশ্বাসে যে মতুয়া সমাজ নতুন করে বুকভরে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে, এদিনের এই অনুষ্ঠানে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসই তার শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।
দুর্গাপুর
নাগরিকত্ব ইস্যুতে বড় ঘোষণা শান্তনু ঠাকুরের, মতুয়া মহলে বইছে খুশির হাওয়া

Nirbhik Bangla Photo
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
