Nirbhik Bangla
দুর্গাপুর

ফান্ডের লোভে সর্বস্বান্ত শতাধিক মহিলা, দুর্গাপুরে প্রতারণার অভিযোগে সরগরম এলাকা

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ০৮:৪৩ AM
WhatsApp
ফান্ডের লোভে সর্বস্বান্ত শতাধিক মহিলা, দুর্গাপুরে প্রতারণার অভিযোগে সরগরম এলাকা
Nirbhik Bangla Photo
দুর্গাপুর: শারদোৎসবের প্রাক্কালে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও প্রতারণার শিকার হলেন দুর্গাপুর নগরনিগমের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের বীরভানপুর এলাকার শতাধিক মহিলা। উৎসবের আনন্দ ম্লান করে দিয়ে কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের লক্ষাধিক টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয় বাসিন্দা চম্পা বাউরীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, অভিযুক্ত চম্পা বাউরী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি মাসিক ফান্ড বা কমিটি চালাতেন। এলাকার সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের সহজে বেশি সুদের লোভ দেখিয়ে তিনি এই ফান্ডে টাকা জমানোর জন্য উৎসাহিত করতেন। তাঁর মিষ্টি কথায় বিশ্বাস করে এলাকার প্রায় একশো জনেরও বেশি মহিলা প্রতিদিন বা প্রতিমাসে তাঁদের উপার্জনের একটি অংশ ওই ফান্ডে জমা করতেন। পুজো বা বিপদের দিনে সেই টাকা সুদে-আসলে ফেরত পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন তাঁরা।

কিন্তু সম্প্রতি টাকা ফেরতের সময় আসতেই তাল কাটতে শুরু করে। বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা করতে শুরু করেন চম্পা বাউরী। এরপর সন্দেহ হওয়ায় মহিলারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে দেখেন তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ এবং তিনি সপরিবারে এলাকা থেকে উধাও। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। প্রতারিত মহিলারা প্রথমে চম্পার স্বামী ও তাঁর বাপের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন, কিন্তু সেখানেও কেউ কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এমনকি অভিযুক্তের বাড়ির লোকজনও এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

পুজোর ঠিক মুখে মাথায় হাত পড়েছে সাধারণ এই পরিবারগুলির। অনেকেরই অভিযোগ, সারা বছরের সঞ্চয়, কারো বা মেয়ের বিয়ের জমানো টাকা বা পুজোর বাজার করার অর্থ এই ফান্ডে ডালপালা মেলেছিল। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত আইনগত সহায়তার পথ বেছে নেন তাঁরা। গত শনিবার রাতে ১০০-রও বেশি প্রতারিত মহিলা একত্রিত হয়ে দুর্গাপুর কোকওভেন থানায় হাজির হন। তাঁরা অভিযুক্ত চম্পা বাউরীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন।

থানায় উপস্থিত ভুক্তভোগী মহিলারা জানান, তাঁরা দিনমজুর কিংবা ছোটখাটো কাজ করে তিলে তিলে এই টাকা জমিয়েছিলেন। পুজোর আগে সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় তাঁদের চোখে জল। পুলিশের কাছে তাঁদের একটাই আকুতি, দ্রুত যেন অভিযুক্ত চম্পাকে খুঁজে বের করে তাঁদের জমানো কষ্টের টাকা উদ্ধার করা হয় এবং দোষীর কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কোকওভেন থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ট্যাগসমূহ:Durgapur news
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য
ফান্ডের লোভে সর্বস্বান্ত শতাধিক মহিলা, দুর্গাপুরে প্রতারণার অভিযোগে সরগরম এলাকা | নির্ভীক বাংলা