Nirbhik Bangla
ব্রেকিং নিউজ

নিরাপত্তার অভাবেই কি দুর্ঘটনা? জামুড়িয়ায় চিমনি ভেঙে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৫:৩০ PM
WhatsApp
নিরাপত্তার অভাবেই কি দুর্ঘটনা? জামুড়িয়ায় চিমনি ভেঙে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ
Nirbhik Bangla Photo
উৎসবের আনন্দের মাঝেই আসানসোলের শিল্পাঞ্চল জামুড়িয়ায় নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। মহাসপ্তমীর পুজো-পরিক্রমা ও মণ্ডপে মণ্ডপে যখন সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়, ঠিক তখনই এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত ইকড়া শিল্প তালুক। সেখানকার বিশিষ্ট 'শ্যাম সেল' (Shyam Sel) কারখানার ৩ নম্বর গেটের কাছে, সার্থকপুর শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বিশালাকার চিমনি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অন্তত দু'জন শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন, যা দুর্গাপূজার আনন্দের আবহে এক গভীর শূন্যতা ও বিষাদের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মহাসপ্তমীর দিন সন্ধ্যায় যখন গোটা রাজ্য উৎসবের আলোয় আলোকিত, তখন ওই কারখানার ভেতরে ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় পুরোদমে চিমনি নির্মাণের কাজ চলছিল। অভিযোগ উঠেছে, বেশ কয়েকজন শ্রমিক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উঁচু কাঠামোয় কাজ করছিলেন। সেই সময় হঠাৎ করেই নির্মাণাধীন চিমনির দেওয়াল ও একটি বিশালাকার ধাতব কাঠামো প্রচণ্ড শব্দে হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ঘন ধুলো ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং নিচে কর্মরত শ্রমিকরা বিশালাকার কংক্রিট ও লোহার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান। বিকট শব্দ শুনে আশেপাশের কর্মীরা ও কারখানার নিরাপত্তা রক্ষীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং প্রাথমিক উদ্ধারকাজে হাত লাগান।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জামুড়িয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী, কমব্যাট ফোর্স এবং দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দ্রুত আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে নামে প্রশাসন। কারখানার ভারী জেসিবি (JCB) ও ক্রেন এনে কংক্রিটের ভারী স্ল্যাব ও লোহার বিম সরানোর চেষ্টা চালানো হয়। দীর্ঘ ও arduous চেষ্টার পর চারজন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাঁদের মধ্যে দু'জনকে সংজ্ঞাহীন ও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্য এক শ্রমিককে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় আসানসোলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এদিকে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কারখানার বাইরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের প্রাথমিক অভিযোগ, কোনো ধরনের উপযুক্ত নিরাপত্তাবিধি ও সুরক্ষা কবচ না মেনেই এই অত্যন্ত বিপজ্জনক নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছিল। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না যায় এবং কোনো আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, তার জন্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয় এবং মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান জামুড়িয়ার স্থানীয় বিধায়ক বিজন মুখার্জি। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজের তদারকি করেন এবং প্রশাসনকে আরও দ্রুত গতিতে উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে তিনি আহতদের দ্রুত ও উন্নত সুচিকিৎসা এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জোরালো আশ্বাস দেন।

উৎসবের মরসুমে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ নিয়ে ফের একবার অত্যন্ত জোরালো প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। পর্যাপ্ত ও বাধ্যতামূলক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা ছাড়া কীভাবে এত বড় একটি চিমনির নির্মাণকাজ চলছিল এবং এই দুর্ঘটনার পেছনে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো প্রত্যক্ষ গাফিলতি বা প্রশাসনিক ত্রুটি ছিল কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও কারখানা পরিদর্শক দপ্তর (Factory Inspectorate)। মহাসপ্তমীর রাতে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক দুর্যোগে গোটা আসানসোল ও জামুড়িয়া শিল্পাঞ্চল জুড়েই এখন কেবল কান্নার রোল এবং গভীর বিষাদের ছায়া বিরাজ করছে।
ট্যাগসমূহ:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
১২ মন্তব্য